বেহালা থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা পার্থর
সাড়ে তিন বছর কারাবাসের পর রাজনীতির ময়দানে আবার সক্রিয় হতে চাইছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই নিজের পুরনো বিধানসভা কেন্দ্র বেহালা পশ্চিমে গিয়ে জনসংযোগ শুরু করেছেন তিনি।
চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলা থেকে শুরু করে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক—সব মিলিয়ে এলাকায় নিজের উপস্থিতি জানান দিতে চাইছেন পার্থ।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি নাকতলার বাড়ি থেকে বেহালার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন,
“বেহালার মানুষকে একটাই বার্তা—আমি তোমাদেরই লোক। তাদের স্নেহ ও আশীর্বাদেই পরপর পাঁচবার বিধায়ক হয়েছি।”
এর আগেই জামিনে মুক্ত হয়ে বেহালাবাসীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন তিনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই চিঠির পর এবার সরাসরি জনসংযোগে নেমে কার্যত নির্বাচনী প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছেন পার্থ।
তৃণমূলের অন্দরে অন্য মুখের খোঁজ
তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তৃণমূলের অন্দরে অন্য সমীকরণের আলোচনা বাড়ছে।
দলীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন জেলে থাকার কারণে এলাকার মানুষের সঙ্গে পার্থর যোগাযোগ অনেকটাই কমে গিয়েছিল। ফলে স্থানীয় ক্ষোভ-বিক্ষোভ সামাল দিতে নতুন মুখ খোঁজার ভাবনাও শুরু হয়েছে।
এমনকি বেহালা পশ্চিমে একজন দাপুটে মহিলানেত্রীকে প্রার্থী করার সম্ভাবনাও দলীয় অন্দরে আলোচনায় রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। যদিও শেষ পর্যন্ত দল কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নামও আলোচনায়
এই সমীকরণে নতুন করে উঠে এসেছে প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাম। সম্প্রতি তৃণমূলে তাঁর ঘরওয়াপসি রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন মোড় দিয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুর্নীতির মামলায় জেল না খাটার কারণে সংগঠনের কাছে শোভনের গ্রহণযোগ্যতা পার্থর চেয়ে বেশি হতে পারে।
এছাড়া বেহালা এলাকায় তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাব এখনও যথেষ্ট বলেও মনে করা হচ্ছে। ফলে বেহালা পশ্চিমে শোভনকে প্রার্থী করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বেহালা পূর্বে রত্না, জটিল পারিবারিক সমীকরণ
অন্যদিকে বেহালা পূর্ব কেন্দ্র ইতিমধ্যেই তৃণমূল বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়ের দখলে। ২০২১ সালে শোভনের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন তিনি।
শোভন–রত্না–বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আদালত সংক্রান্ত টানাপোড়েন এখনও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয়।
এই পরিস্থিতিতে রত্নাকে সরিয়ে শোভনকে বেহালা পূর্বে প্রার্থী করা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ এতে দলের ভিতরে অস্বস্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
‘বেহালার উত্তর’ খুঁজছেন পার্থ?
সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সামনে নতুন কোনও কেন্দ্র খোঁজার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে?
বেহালা পূর্ব রত্নার দখলে, বেহালা পশ্চিমে শোভন বা অন্য মুখের জল্পনা—এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে কৌতুক করে বলা হচ্ছে, “পার্থ কি তবে বেহালার ‘উত্তর’ খুঁজছেন?”
২০২৬ সালের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের এই সমীকরণ কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।







