ভোট ঘোষণার পর West Bengal Assembly Election 2026 ঘিরে প্রশাসনিক রদবদলের ঝড় তুলেছিল Election Commission of India। কিন্তু সেই কঠোর অবস্থান থেকে আংশিক পিছু হটল কমিশন।
বুধবার আইপিএস মুরলিধর শর্মা এবং আইপিএস ওয়াকার রাজাকে অন্য রাজ্যে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর নির্দেশ জারি হয়েছিল। তবে নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আপাতত সেই অর্ডার স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে মুরলিধর শর্মা বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার এবং ওয়াকার রাজা শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার পদেই বহাল থাকছেন।
এছাড়াও প্রবীন ত্রিপাঠী ও আকাশ মাঘারিয়া-সহ তিন জন অফিসারকে আপাতত ‘রিজার্ভ’-এ রাখা হয়েছে। তাঁদেরও এখনই অন্য রাজ্যে পাঠানো হয়নি, যদিও ভবিষ্যতে বদলির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
এর আগে রবিবার রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের একাংশকে সরিয়ে দেওয়ার পর মঙ্গলবার আরও বড় পদক্ষেপ নেয় কমিশন। মোট ১২ জন পুলিশ সুপার, ৫টি পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার এবং Kolkata Police-এর এক ডেপুটি কমিশনারকে পদ থেকে সরানো হয়।
কমিশনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, এই অফিসারদের অনেকেই শাসক দলের ঘনিষ্ঠ। যদিও Election Commission of India-র যুক্তি, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই রদবদল।
বুধবার নবান্ন বিকল্প দায়িত্ব ঘোষণা করলেও, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই দিল্লি থেকে নতুন নির্দেশ আসে। তাতে সরানো অফিসারদের বড় অংশকেই কেরল, তামিলনাড়ু ও অসমে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
তবে বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি খানিক বদলায়। কমিশন জানিয়ে দেয়, অন্তত কিছু ক্ষেত্রে বদলির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। সেই সূত্রেই মুরলিধর শর্মা ও ওয়াকার রাজাকে আপাতত রাজ্যেই রেখে দেওয়া হল।
শুধু পুলিশ নয়, একাধিক সিনিয়র আইএএস অফিসারকেও ভোটের সময় অন্য রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তালিকায় রয়েছেন জেলা শাসক থেকে শুরু করে বিভিন্ন দফতরের সচিব পর্যায়ের আধিকারিকরাও।
ভোটের আগে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে টানাপোড়েন যে এখনও শেষ হয়নি, কমিশনের এই দ্বৈত পদক্ষেপে তা আরও স্পষ্ট হল।







