নিজস্ব সংবাদদাতা: উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল— West Bengal Assembly Election 2026-এর প্রথম দফাতেই শক্তি প্রদর্শনে কোনও খামতি রাখছে না Bharatiya Janata Party (বিজেপি)। হেভিওয়েট নেতাদের নামিয়ে কার্যত ‘কার্পেট বম্বিং’ কৌশল নিয়েছে গেরুয়া শিবির, যার লক্ষ্য—প্রচারযুদ্ধে শুরুতেই মনস্তাত্ত্বিক দখল নেওয়া।
দলের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, প্রচারের নিরিখে শীর্ষে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah। উত্তর থেকে দক্ষিণ—প্রথম দফার প্রচারপর্বে মোট ৩০টি জনসভা ও জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। বিজেপি সূত্রের দাবি, শাহের এই ম্যারাথন সূচিই প্রথম দফার লড়াইয়ে দলের প্রধান অস্ত্র।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ নেতাদেরও বাংলার ময়দানে নামানো হয়েছে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী Smriti Irani থাকছেন ১৩টি জনসভায়। পশ্চিমবঙ্গের সহ-পর্যবেক্ষক নীতিন নবীন ১০টি সভায় অংশ নেবেন। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী Manik Saha জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় ৯টি সভা করবেন।
এছাড়া, অসমের মুখ্যমন্ত্রী Himanta Biswa Sarma এবং ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Biplab Kumar Deb—প্রত্যেকে ৮টি করে জনসভায় থাকছেন। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী Rajnath Singh এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি J. P. Nadda—দু’জনেই ৬টি করে সভা করবেন।
বিনোদন জগতের পরিচিত মুখদেরও কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি। অভিনেত্রী তথা সাংসদ Kangana Ranaut ৭টি জনসভায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি রয়েছেন Hema Malini (৪টি সভা), ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী Mohan Charan Majhi (৬টি সভা) এবং রাজস্থানের নেত্রী রেখা গুপ্তা (৫টি সভা)। জঙ্গলমহলে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে নজর রেখে অর্জুন মুণ্ডা ও বাবুলাল মারান্ডিকেও ৪টি করে সভায় দেখা যাবে।
বিজেপির অন্দরে দাবি, প্রথম দফার এই সর্বশক্তি নিয়োগ আসলে ‘টোন সেটিং’—যার মাধ্যমে পরবর্তী দফাগুলিতে রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় দফার জন্যেও একই ধরনের পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, সেখানে Amit Shah দক্ষিণবঙ্গে একাধিক জনসভা করবেন।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র কর্মসূচিও চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। শেষ পর্বে কলকাতায় তাঁর দু’টি বড় অনুষ্ঠান হতে পারে—উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতায়। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে রোড শো বা বড় জনসভার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে গেরুয়া শিবির।
রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম দফাতেই এই ‘অল-আউট’ প্রচার কৌশল স্পষ্ট করে দিচ্ছে—২০২৬-এর লড়াইয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় বিজেপি। এখন দেখার, এই আগ্রাসী প্রচার কৌশল ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।







