রাজনীতি

শান্তিকুঞ্জে হঠাৎ জুন মালিয়া! শিশিরের আশীর্বাদ নিয়ে দিব্যেন্দুর সঙ্গে বন্যা এলাকায়, নতুন সমীকরণের জল্পনা

মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়ার কাঁথি সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। কাঁথির শান্তিকুঞ্জে গিয়ে প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন তিনি। সৌজন্য সাক্ষাৎ বলেই এই সাক্ষাৎকে ব্যাখ্যা করেছেন জুন। তবে এরপরই শুভেন্দু অধিকারীর ভাই তথা এগরার বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

শান্তিকুঞ্জে বেশ কিছুক্ষণ ছিলেন জুন। শিশির অধিকারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎ শেষে জুন জানান, একই জেলার মানুষ হওয়ার কারণে এই সাক্ষাতের মধ্যে ছিল ‘মাটির টান’। শিশির অধিকারী তাঁকে ভালোভাবে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং প্রাণভরে আশীর্বাদ করেছেন বলেও জানান সাংসদ।

এরপর শান্তিকুঞ্জ থেকে সরাসরি এগরার জলমগ্ন এলাকায় পৌঁছন জুন ও দিব্যেন্দু। এগরা-১ ব্লকের সাহাড়া অঞ্চলের হাটপদা, গোপীনাথপুর এবং চকমুরারি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। দুর্গত মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় শুকনো খাবার ও ত্রিপল। স্থানীয় মানুষের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন দু’জনে।

শিশির অধিকারীও জুনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, এগরার বন্যাকবলিত এলাকায় সাংসদ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চাওয়ার পর তা পাওয়া গিয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে জুনের শান্তিকুঞ্জ সফরকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ সরাসরি জানতে চেয়েছেন, জুন মালিয়া বর্তমানে কোন রাজনৈতিক দলের। ফলে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং ত্রাণ বিলির ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।

জুন অবশ্য তাঁর এই সফরকে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে ব্যাখ্যা করেননি। কিন্তু শিশিরের আশীর্বাদ নেওয়া থেকে শুরু করে দিব্যেন্দুর সঙ্গে দুর্গত এলাকায় যাওয়া—পরপর এই দুই ঘটনায় ভবিষ্যতের কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত রয়েছে কি না, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.