দেশবিশ্ব

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনায় তেলের আগুন, চাপে মধ্যবিত্ত—বাড়তে পারে গ্যাস-পেট্রোলের দাম

ব্যারেল প্রতি ব্রেন্ট ক্রুড ১১২ ডলার ছুঁইছুঁই, মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় কাঁপছে বাজার

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহ ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকা—এই তিন শক্তির সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। ভাত-ডাল খাওয়া মধ্যবিত্ত এখন সবচেয়ে বেশি চাপে।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে ব্যারেল প্রতি ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম পৌঁছে গিয়েছে ১১২ ডলারে, যা একদিন আগেও ছিল ১০৭ ডলার। অর্থাৎ প্রতিদিনই দ্রুতগতিতে বাড়ছে তেলের দাম। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ঊর্ধ্বগতি অদূর ভবিষ্যতেও থামার কোনও লক্ষণ নেই।

এর সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে দেশীয় বাজারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, খুব শিগগিরই বাড়তে পারে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। পাশাপাশি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনাও প্রবল। ফলে পরিবহণ খরচ বাড়বে, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও।

শুধু জ্বালানি নয়, তেলের দাম বৃদ্ধির ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে। রাসায়নিক শিল্প, সিমেন্ট ও নির্মাণ সামগ্রী, অটোমোবাইল এবং এফএমসিজি—সব ক্ষেত্রেই খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

অর্থনীতিবিদদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম একবার ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলার ছাড়ালে তা দ্রুত নিচে নামার সম্ভাবনা কম থাকে। অতীতের তথ্য বলছে, এমন পরিস্থিতিতে দাম স্বাভাবিক হতে প্রায় এক বছর সময় লেগে যায়। ফলে সস্তা জ্বালানির জন্য অপেক্ষা দীর্ঘ হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ব্রোকারেজ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৩৫ বছরে এই নিয়ে চতুর্থবার তেলের দাম ৮০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে। এর আগে ২০০৭-০৮, ২০১০-১৪ এবং ২০২১-২৩—এই তিন পর্যায়ে দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম উচ্চস্তরে ছিল। প্রতিবারই এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ১২ মাস বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, বৈশ্বিক পণ্যমূল্য সূচকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে ভারতের পাইকারি মূল্য সূচক (WPI) প্রায় ৫.৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সাধারণত তেলের দামের প্রভাব বাজারে পুরোপুরি পড়তে প্রায় এক মাস সময় লাগে।

সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এখন শুধু ভূ-রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তার রেশ পৌঁছে গিয়েছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘর পর্যন্ত। সামনে দিনগুলোতে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.