রাজনীতি

মাঝরাতে পতাকা–রাজনীতি! EC অফিস সামনে তৃণমূল–বিজেপি অশান্তি ফের বাড়ল

নির্বাচন কমিশনের অফিসের ঠিকানা বদলের পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ফর্ম-৬ জমা নিয়ে মঙ্গলবার রাতে যে অশান্তি তৈরি হয়েছিল, তার ধাক্কা বুধবার রাতেও থেকে যায়। অভিযোগ, গভীর রাতে সিইও দফতরের সামনে ঝুলতে থাকা বিজেপির পতাকা তৃণমূল খুলে দেয়—আর সেই নিয়েই উত্তেজনা ফের চড়ে।

প্রশ্ন উঠছে—BSNS-এর ১৬৩ ধারা জারি থাকার পরেও এলাকায় বিজেপির পতাকা ঝুলছে কীভাবে? ঠিক এই অভিযোগ ঘিরেই তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

এর আগেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন—বিজেপি বেআইনিভাবে ভিনরাজ্যের ভোটারদের ফর্ম-৬ জমা দিচ্ছে, বাংলার ভোটে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। সেই অভিযোগের জেরেই মঙ্গলবার রাতভর তৃণমূলের ধর্না, উত্তেজনা, তারপর ১৬৩ নম্বর ধারা জারি হয় EC-র অফিসের সামনে।

তবুও বিতর্ক থামেনি। বুধবারও তৃণমূল ফের বিক্ষোভে নামে EC দফতরের সামনে। তাদের দাবি—বিজেপির পতাকা খুলতে হবে, নাহলে তৃণমূলও ফের পতাকা লাগাবে। তারা অভিযোগ করে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ইন্ধনে আইন ভেঙে পতাকা লাগিয়েছে বিজেপি।

অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে গাড়ি এনে বিজেপির পতাকা খোলা হয়। তবে ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। ১৬৩ নম্বর ধারার আওতার বাইরেও যেসব জায়গায় বিজেপির পতাকা ও চৌরঙ্গীর বিজেপি প্রার্থী সন্তোষ পাঠকের ব্যানার লাগানো ছিল—তাও খুলে দেয় তৃণমূল কর্মীরা।

তৃণমূলের ছাত্র নেতা অভিরূপ চক্রবর্তী বলেন,
“আমাদের পতাকা খুলে দেওয়া হয়েছে, তাহলে বিজেপির থাকবে না। সরকারি জায়গায় ল্যাম্পপোস্টে বিজেপির পতাকা ঝুলছে—তা আমরা কেন মেনে নেব?”

ফর্ম-৬ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত ক্রমেই রাজ্য রাজনীতিতে তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে। নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে তৃণমূল-বিজেপির উত্তেজনার পারদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.