২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটার তালিকা সোমবার রাত বারোটাতেই ‘ফ্রিজ’ হয়ে যাচ্ছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, এই সময়ের পর ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে কারও নাম সংযুক্ত হলেও প্রথম দফার ভোটে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ আর থাকবে না।
রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও বিবেচনাধীন ছিল। এদের মধ্যে প্রায় ৫৮ লক্ষের নিষ্পত্তি করে ফেলেছেন বিচারপতিরা। কমিশনের হিসেব, নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলির মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ ক্ষেত্রে নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। তবে নাম বাদ পড়লে আবেদনকারীরা ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন।
কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাইব্যুনাল কবে থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পাঁচটি মামলার শুনানি শেষ হলেও ১৯টি ট্রাইব্যুনালের মধ্যে মাত্র ছ’টির পরিকাঠামো প্রস্তুত।
সুপ্রিম কোর্ট এদিন জানিয়ে দিয়েছে, সব ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক। সেই উদ্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে তিনজন প্রাক্তন বিচারপতি-সহ একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিই সব ট্রাইব্যুনালের জন্য অভিন্ন নির্দেশিকা প্রস্তুত করবে। আদালতের আশা, সম্ভব হলে মঙ্গলবারই এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে, যাতে আপিল নিষ্পত্তির গতি বাড়ে।
অফলাইনে আপিল জমা পড়লে জেলা শাসকের দফতর থেকে রসিদ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত, যাতে প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
অন্যদিকে, রাজ্যে নির্বিঘ্ন ভোট করানোই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছে কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, গতবার ভোট-পরবর্তী হিংসার নজির থাকা এলাকাগুলিতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। ২০২১-এর নন্দীগ্রামের অভিজ্ঞতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “অশান্তি রুখতে কমিশন বদ্ধপরিকর। আমি নিজে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করব।”
সব মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়া, ভোটার তালিকা এবং আইনশৃঙ্খলা—তিনটি ফ্রন্টেই এখন সতর্ক ও সক্রিয় রাজ্য নির্বাচন কমিশন।







