২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাংলার রাজনীতিতে নাটকীয়তার পারদ চড়ছে। সাম্প্রতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান এবং তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক তরজা। ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, বিজেপির সঙ্গে গোপন আর্থিক সমঝোতার চেষ্টা করেছেন হুমায়ুন। অভিযোগ অনুযায়ী, মুসলিম ভোট ঘোরানোর বিনিময়ে তিনি বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করেছেন, এমনকি আগাম অর্থ নেওয়ার কথাও শোনা যায়। এই ইস্যুতে শুক্রবার কলকাতায় প্রতিক্রিয়া দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আদর্শগতভাবে হুমায়ুন কবীর এবং বিজেপির অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে। তাঁর কথায়, বিজেপি কখনওই এমন কোনও ব্যক্তির সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা ভাবতে পারে না।
অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর এই ভিডিওকে ‘এআই-প্রসূত অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয় করার চেষ্টা চলছে। এই বিতর্কের সরাসরি প্রভাব পরেছে রাজনৈতিক সমীকরণেও। ইতিমধ্যেই হুমায়ুনের দলের সঙ্গে সম্ভাব্য জোট ভেঙে দিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুসলিম সমাজের সম্মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে—এমন কোনও বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে তারা যুক্ত থাকতে চায় না। সব মিলিয়ে, ভিডিও বিতর্ক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার চাপে কার্যত কোণঠাসা হুমায়ুন কবীর। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ঘটনা যে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।







