২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ ঘিরে সকাল থেকেই তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ। বুথে বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন যেমন গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের ছবি তুলে ধরেছে, তেমনই সমান্তরালে শুরু হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের লড়াই।
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সরব হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী Shashi Panja সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক সরাসরি বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট দুই আধিকারিকের নাম উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল। এই অভিযোগ নিয়ে দলের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবালের দপ্তরেও যায়। তাদের প্রশ্ন— যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের কেন এত স্পর্শকাতর কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হল?
অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় পাল্টা বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari। ভোট দেওয়ার পর তিনি দাবি করেন, পিংলা থানার ওসি চিন্ময় প্রামাণিক বিজেপির পোলিং এজেন্টদের বুথে বসতে দিচ্ছেন না এবং শাসক দলকে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করছেন। তিনি অবিলম্বে ওই আধিকারিকের সাসপেনশনের দাবি জানান এবং বিষয়টি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে সরাসরি জানানোর কথাও বলেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদল নিয়েও বিতর্ক তুঙ্গে। একাধিক জেলা শাসক ও পুলিশ আধিকারিককে সরানোর সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee ইতিমধ্যেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করেই একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
যদিও বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর সামনে এসেছে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে প্রথম দফার ভোট মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ। সকাল ৯টা পর্যন্ত গড়ে প্রায় ১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। সব মিলিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা ঘিরে প্রশ্ন ও রাজনৈতিক তরজার আবহে ভোটের প্রথম দিনেই উত্তেজনা তুঙ্গে।







