দুর্নীতির অভিযোগে শেষমেশ পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর তথা এমআইসি দেবরাজ চক্রবর্তী। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সংগঠনের অত্যন্ত প্রভাবশালী মুখ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মঙ্গলবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র জল্পনা। কারণ, ঠিক যেদিন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ালেন, সেই দিনই দেবরাজের আটক হওয়ার ঘটনাকে নিছক কাকতালীয় বলে মানতে নারাজ বিরোধীরা। তাদের দাবি, নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই তৃণমূলের আর্থিক ও সাংগঠনিক স্তম্ভগুলিকে একে একে আইনি চাপে ফেলার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই কার্যত বেপাত্তা ছিলেন দেবরাজ। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে গুঞ্জন ছিল, সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ এড়াতেই আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, বিধাননগর পুর এলাকায় নিয়োগ ও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল আর্থিক দুর্নীতির ডসিয়ার তৈরি করেছিল তদন্তকারী সংস্থাগুলি। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও আগেই ইডি ও সিবিআইয়ের নজরে এসেছিলেন তিনি।
তৃণমূলের অন্দরে দেবরাজকে শুধু কাউন্সিলর নয়, উত্তর ২৪ পরগনা ও যুব সংগঠনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডান হাত’ হিসেবেই দেখা হত। কামারহাটি থেকে বিধাননগর পর্যন্ত সংগঠনের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতেই ছিল বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
এদিকে একদিকে কালীঘাট ও হরিশ মুখার্জি রোডে পুরসভার ডিমোলিশন নোটিশ, অন্যদিকে জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানো এবং তার পরেই দেবরাজের আটক—সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই বড়সড় চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন নজর, এই তদন্ত শেষ পর্যন্ত আর কোন বড় নেতার দরজায় গিয়ে পৌঁছায়।







