রোগী বাঁচানোর জন্য দেওয়া হয়েছিল অ্যাম্বুল্যান্স। অথচ সেই গাড়িই নাকি রাতের অন্ধকারে ব্যবহার হচ্ছিল ছাগল চুরির কাজে! হুগলির দাদপুরে এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় চক্ষু চড়কগাছ পুলিশ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের। অ্যাম্বুল্যান্স থামিয়ে দরজা খুলতেই ভিতরে রোগীর বদলে মিলল জ্যান্ত ছাগল। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র শোরগোল ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধনেখালির তৃণমূল বিধায়ক অসীমা পাত্র বিধায়ক তহবিল থেকে এলাকার মানুষের জরুরি পরিষেবার জন্য একটি অ্যাম্বুল্যান্স দিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই অ্যাম্বুল্যান্স নিয়েই শুক্রবার গভীর রাতে গ্রামে গ্রামে ঘুরছিল একদল যুবক। শনিবার ভোরে দাদপুর থানার সারখোলা এলাকায় নৈশ তল্লাশির সময় পুলিশের সন্দেহ হয় দ্রুতগতির ওই অ্যাম্বুল্যান্সটিকে দেখে। এরপর গাড়ি আটক করে তল্লাশি চালাতেই সামনে আসে অবাক করা ছবি। ভিতরে চিকিৎসার কোনও সরঞ্জাম বা রোগী ছিল না, ছিল চুরি করা দুটি ছাগল।
ঘটনায় অ্যাম্বুল্যান্স চালক আহমেদ আলি সরকার-সহ দীপঙ্কর রায় ও রজত ক্ষেত্রফল নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেরায় ধৃতরা নাকি স্বীকার করেছে, ঈদের আগে বাজারে ছাগলের দাম বাড়ায় চুরি করে সেগুলি বিক্রির পরিকল্পনাই ছিল তাদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় একাধিক ছাগল চুরির ঘটনা ঘটছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে এই চক্রের যোগ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এখন প্রশ্ন উঠছে, জনসেবার জন্য দেওয়া অ্যাম্বুল্যান্স কীভাবে চোরদের হাতে পৌঁছাল? কারা এর দায়িত্বে ছিল? কেন রাতের বেলায় সেটি ব্যবহার করা হচ্ছিল? গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দাদপুর থানার পুলিশ।







