মালদহের বহুচর্চিত মোথাবাড়িকাণ্ডে তদন্তে বড় অগ্রগতি ঘটাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও ও আটকে রাখার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার মধ্যে চারটি মামলায় মঙ্গলবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে এনআইএ। সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে।
এনআইএ সূত্রের খবর, চারটি মামলায় মোট ৩১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে মোফাক্কেরুল ইসলামের। পাশাপাশি চার্জশিটে রয়েছেন একরামুল বাগানিও। চারটি মামলার মধ্যে দু’টিতে তিনজন করে অভিযুক্ত রয়েছেন, একটি মামলায় ১৫ জন এবং অন্যটিতে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ভিডিও ফুটেজ, ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ এবং একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগ, অভিযুক্তরা বেআইনিভাবে জমায়েত হয়ে রাস্তা অবরোধ করেন এবং এসআইআর সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও করে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন। চার্জশিটে ঘটনার দিন প্রত্যেক অভিযুক্তের নির্দিষ্ট ভূমিকার উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১১ মে এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এনআইএ-কে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ মেনেই তদন্তে গতি এনে প্রথম ধাপে চারটি মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়া হল।
উল্লেখ্য, মোফাক্কেরুল ইসলামকে এই ঘটনার অন্যতম ‘মূলচক্রী’ বলে দাবি করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। অভিযোগ, অশান্তির আগে তাঁর একটি উস্কানিমূলক ভাষণ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। ঘটনার পর দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাঁকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এনআইএ ইতিমধ্যেই আদালতের কাছে নতুন মামলায় তাঁকে ও একরামুল বাগানিকে যুক্ত করার আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের অনুমতিও চাওয়া হয়েছে। ফলে মোথাবাড়িকাণ্ডের তদন্তে আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।







