কলকাতায় লিওনেল মেসির সফরকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত ‘মেসিকাণ্ড’-এ এবার আরও চাপে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। দ্বিতীয়বার তলবের নোটিস পাঠানোর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যায় বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ির দরজায় নোটিস সেঁটে দিয়ে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সোমবার সকাল ১১টার মধ্যে তাঁকে থানায় হাজিরা দিতেই হবে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অরূপ বিশ্বাস অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দু’সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন। তবে সেই দাবির সমর্থনে কোনও নির্ভরযোগ্য মেডিক্যাল রিপোর্ট বা প্রমাণপত্র জমা না দেওয়ায় তাঁর আবেদন খারিজ করা হয়েছে। নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ে থানায় হাজির না হলে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ডিসেম্বরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির সফরকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, সাধারণ দর্শকদের বঞ্চিত করে অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছিল। ফলে বিপুল অর্থ খরচ করে টিকিট কাটলেও বহু ফুটবলপ্রেমী মেসিকে কাছ থেকে দেখতে পারেননি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয় এবং জনরোষের মুখে শেষ পর্যন্ত ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হন অরূপ বিশ্বাস।
এদিকে অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অরূপ বিশ্বাস-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এফআইআর নথিভুক্ত হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তোলাবাজি, প্রতারণাসহ মোট পাঁচটি গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
গ্রেফতারির আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। তাঁর আগাম জামিনের আবেদনের শুনানি শিগগিরই হওয়ার কথা। তবে আদালতের শুনানির আগেই পুলিশের কড়া অবস্থান এবং বাড়িতে নোটিস টাঙানোর ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ফলে মেসিকাণ্ডে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর আইনি সঙ্কট আরও ঘনীভূত হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।







