রাজনীতি

বিদ্রোহী সাংসদদের ‘মার্জার’ প্রহসন, পদ খারিজের দাবি কপিল সিব্বলের

দিল্লি: লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ রাতারাতি ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এবার সেই বিতর্কে সরব হলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ সাংবিধানিক আইনজীবী ও প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল। তিনি এই গোটা ঘটনাকে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক ‘প্রহসন’ বলে কটাক্ষ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি তুলেছেন।

রবিবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে কপিল সিব্বল লেখেন, “তৃণমূলের বিদ্রোহীরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টির সঙ্গে মিশে যাবে! ভারতীয় গণতন্ত্র এখন থিয়েটার অফ দ্য অ্যাবসার্ড হয়ে উঠেছে। এটা এক চরম রসিকতা।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

সিব্বল শুধু রাজনৈতিক সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি, তিনি দলত্যাগ বিরোধী আইনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যাও সামনে এনেছেন। তাঁর মতে, দশম তফসিল অনুযায়ী কোনও আইনসভার দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একসঙ্গে বেরিয়ে এলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে মিশে যেতে পারেন না। বৈধ সংযুক্তিকরণের জন্য মূল রাজনৈতিক দলের সম্মতি বা সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস নিজে যদি এমন কোনও সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে বিদ্রোহী সাংসদদের এই ‘মার্জার’ সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নের মুখে পড়বে।

এই প্রেক্ষাপটে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কপিল সিব্বল স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন, দলত্যাগ বিরোধী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সিব্বলের এই অবস্থান আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্টে সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। বিদ্রোহী সাংসদরা যখন পৃথক স্বীকৃতির দাবিতে স্পিকারের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন তাদের সাংসদ পদ খারিজের দাবিতে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনাও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.