টানা তিনবার হাজিরা এড়ানোর পর অবশেষে বৃহস্পতিবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় উপস্থিত হন অরূপ বিশ্বাস। বেলা ১টার মধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব শেষ হয়ে যায়। থানার বাইরে বেরিয়ে তিনি সরাসরি নিজের গাড়িতে উঠে পড়েন। সাংবাদিকরা অপেক্ষা করছিলেন তাঁর প্রতিক্রিয়ার জন্য। কিন্তু কোনও মন্তব্য না করেই তিনি সেখান থেকে চলে যান।
এরপর থেকেই শুরু হয় রহস্য। সাংবাদিকদের গাড়ি তাঁর পিছু নিলেও দেখা যায়, অরূপ যেন বাড়ির পথ এড়িয়েই চলেছেন। টানা তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ান তিনি। অথচ বাড়ির দিকে রওনা দেওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। এমনকি আলিপুর এলাকায়, যেখানে তাঁর বাসভবন রয়েছে, দু’বার পৌঁছেও তিনি বাড়িতে প্রবেশ করেননি।
থানা থেকে বেরিয়ে প্রথমে মা ফ্লাইওভার ধরে আলিপুরে যান অরূপ। সেখান থেকে ফের চেতলা, রাসবিহারী হয়ে গড়িয়াহাট, তারপর বালিগঞ্জ, পার্ক সার্কাস পেরিয়ে আবার মা ফ্লাইওভার ধরে আলিপুরে পৌঁছন। পরে কালীঘাট ও হাজরা হয়ে সার্দান অ্যাভিনিউতে যান। সেখানে ইউ-টার্ন নেওয়ার সময় কিছুক্ষণের জন্য সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “যা বলার, পরে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বলব। বিষয়টি বিচারাধীন। তবে এটুকু বলতে পারি, সত্যেরই জয় হবে।”
এরপর তিনি রবীন্দ্র সরোবরের দিকেও যান। এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্তও বাড়ি পৌঁছাননি তিনি । ফলে তাঁর এই দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যেই তাঁকে দলের কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শুভাশিস চক্রবর্তীকে।
অন্যদিকে, ১২ জুন দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন অরূপ। কিন্তু সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। কারণ, ৫ জুনই সমস্ত সাংগঠনিক ও আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাঁকে কোষাধ্যক্ষের পদ থেকে অপসারণ করে শুভাশিস চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দলের তরফে আনুষ্ঠানিক রেজুলিউশন ও মিনিটসের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্তও নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অরূপ বিশ্বাসের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, তিনি কি দলের বিরুদ্ধে ভিন্ন পথের সন্ধান করছেন? তবে এই সমস্ত বিতর্কের মাঝেও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে—জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কেন তিনি টানা তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উদ্দেশ্যহীনভাবে শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়ালেন?







