ভারতের ডিজিটাল সংযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল রিলায়েন্স জিও। দেশের দুর্গম ও নেটওয়ার্ক-বঞ্চিত এলাকাগুলিতে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে এবার স্যাটেলাইটভিত্তিক পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা করছে সংস্থা। এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন জিওর চেয়ারম্যান আকাশ আম্বানি।
রিলায়েন্সের বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, শুধু শহর বা উন্নত অঞ্চল নয়, দেশের এমন বহু গ্রাম ও পাহাড়ি এলাকায় ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য, যেখানে ফাইবার অপটিক কেবল বা মোবাইল টাওয়ার বসানো অত্যন্ত কঠিন।
জিও সূত্রে জানা গিয়েছে, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর জন্য সংস্থা আপাতত দুই দিক থেকে কাজ করছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট অপারেটরদের কাছ থেকে স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথ বা ক্যাপাসিটি ভাড়া নিয়ে দ্রুত পরিষেবা চালুর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ভারতের নিজস্ব লো আর্থ অরবিট (LEO) স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শুধু মহাকাশেই নয়, মাটিতেও সমান তালে প্রস্তুতি চলছে। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত সিগন্যাল ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে দিতে গ্রাউন্ড স্টেশন, কন্ট্রোল সেন্টার এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে জিও। সংস্থার দাবি, এর ফলে দেশে একটি শক্তিশালী স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন ব্যবস্থা তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, LEO স্যাটেলাইট প্রযুক্তির অন্যতম বড় সুবিধা হল কম ল্যাটেন্সি। প্রচলিত জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইটের তুলনায় এই স্যাটেলাইটগুলি পৃথিবীর অনেক কাছাকাছি অবস্থান করে। ফলে তথ্য আদান-প্রদানের সময় কম লাগে এবং ব্যবহারকারীরা আরও দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবা পান।
এই ব্যবস্থায় মহাকাশে অসংখ্য স্যাটেলাইটের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়, যা একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ বজায় রাখে। ব্যবহারকারীর বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে একটি বিশেষ ডিশ বা টার্মিনালের মাধ্যমে সরাসরি স্যাটেলাইট থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে যাবে। ফলে মোবাইল টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্কের উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে।
জিওর এই উদ্যোগ সফল হলে ভারতের ডিজিটাল সংযোগ ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছে প্রযুক্তি মহল। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রাম, পাহাড়ি অঞ্চল এবং দ্বীপাঞ্চলের বাসিন্দারা এর মাধ্যমে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পরিষেবার সুবিধা পেতে পারেন।







