পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code বা UCC) চালুর ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। উত্তরাখণ্ড, গুজরাত এবং অসমের পর বাংলাতেও একই ধাঁচে UCC কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও আইনটির চূড়ান্ত খসড়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও সম্ভাব্য বিধান নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মূল উদ্দেশ্য হল ধর্ম নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত এক অভিন্ন আইন প্রণয়ন করা। এর ফলে ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে সকলের জন্য একই নিয়ম কার্যকর হবে। সম্ভাব্য বিধান অনুযায়ী, পুরুষদের বহুবিবাহ নিষিদ্ধ হবে, সব ধর্মের ক্ষেত্রেই বিয়ে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হবে এবং বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও একক আইনি কাঠামো অনুসরণ করা হবে। মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছরই থাকবে।
এছাড়া লিভ-ইন সম্পর্ককেও আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতে হলে তা নথিভুক্ত করতে হবে। ২১ বছরের কম বয়সিদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতির বিধান থাকতে পারে। এই ধরনের সম্পর্কে জন্ম নেওয়া সন্তানের উত্তরাধিকার অধিকারও আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত করার প্রস্তাব রয়েছে।
তবে এই প্রস্তাব ঘিরে বিতর্কও কম নয়। সমালোচকদের একাংশের দাবি, লিভ-ইন সম্পর্ক বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধনের নিয়ম নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, গোপনীয়তা এবং নিজের জীবন বেছে নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। পাশাপাশি, এমন আইন বাস্তবে নারীদের সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত করতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
অসমে ইতিমধ্যেই বিয়ে ও ডিভোর্সের বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন, বহুবিবাহ রোধ এবং মহিলাদের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করার মতো একাধিক বিধান ঘোষিত হয়েছে। বাংলায়ও যদি সেই মডেল অনুসরণ করা হয়, তাহলে রাজ্যের পারিবারিক আইন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এখন নজর থাকবে চূড়ান্ত খসড়ায় কী কী বিধান অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তা কীভাবে কার্যকর করা হয়।






