ইংল্যান্ড ক্রিকেটে এক আবেগঘন অধ্যায়ের ইতি। সাদা বলের ক্রিকেট থেকে আগেই সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এবার লাল বলের ক্রিকেটকেও বিদায় জানালেন ইংল্যান্ডের তারকা অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। ট্রেন্টব্রিজে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড টেস্ট সিরিজ চলাকালীন তিনি ঘোষণা করেন, চলতি ম্যাচই হবে তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।
২০১১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর গত দেড় দশক ধরে ইংল্যান্ডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার ছিলেন স্টোকস। দেশের হয়ে তিনি খেলেছেন ১২১টি টেস্ট, ১১৪টি একদিনের আন্তর্জাতিক এবং ৪৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর সংগ্রহ ৭,২২৮ রান ও ১৮০ উইকেট। ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে করা ২৫৮ রানের ইনিংস তাঁর টেস্ট কেরিয়ারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি এবং ২০২৩ সালে একদিনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন তিনি। এবার টেস্ট থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।
২০২২ সালে ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ হওয়ার পর স্টোকসের নেতৃত্বে জন্ম নেয় বহুল আলোচিত ‘বাজবল’ দর্শন। আক্রমণাত্মক মানসিকতার এই ক্রিকেট ইংল্যান্ডকে একাধিক স্মরণীয় জয় এনে দেয়, যদিও একইসঙ্গে সমালোচনারও মুখে পড়তে হয়েছে দলকে।
স্টোকসের ক্যারিয়ারে রয়েছে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত। ২০১৯ সালের অ্যাশেজে হেডিংলেতে জ্যাক লিচকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর অপরাজিত ১৩৫ রানের ইনিংস ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা টেস্ট ইনিংস হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের টানা চার ছক্কার স্মৃতিও তাঁর ক্যারিয়ারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
স্টোকসের অবসরের ঘোষণার পর ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড এক বিবৃতিতে জানায়, “বেন স্টোকস টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর মতো একজন নেতা এবং ম্যাচ উইনারকে দল অবশ্যই মিস করবে।”
সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের বাইরের একটি বিতর্কেও স্টোকসের নাম জড়িয়েছিল। তবে দলে ফিরে এসেই তিনি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন। তাঁর বিদায়ে ইংল্যান্ড ক্রিকেটে শেষ হচ্ছে এক স্বর্ণালি অধ্যায়। একজন লড়াকু অলরাউন্ডার, অনুপ্রেরণাদায়ী অধিনায়ক এবং বড় ম্যাচের নায়ক হিসেবে বেন স্টোকসের অবদান ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে।







