গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক কূটনীতি। বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপটির উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত বলে আবারও দাবি তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই দাবিকে স্পষ্ট ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে ডেনমার্ক সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসেন জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড কোনওভাবেই বিক্রির জন্য নয় এবং দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধুমাত্র সেখানকার মানুষেরই।
ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ডেনমার্ক দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেনি। তাঁর দাবি, কৌশলগত ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতে থাকা উচিত।
এর জবাবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রিনল্যান্ড একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং তার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করা প্রত্যেক মিত্র দেশের দায়িত্ব। তিনি আরও জানান, গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে কোনও আপস করা হবে না।
উল্লেখ্য, ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড প্রায় ৩০০ বছর ধরে ডেনমার্কের অধীনে রয়েছে। দ্বীপটির অভ্যন্তরীণ প্রশাসন স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করলেও প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি দেখভাল করে ডেনমার্ক সরকার।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার পর থেকেই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একাধিকবার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন তিনি। সেই আবহেই ফের তাঁর মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, ডেনমার্ক স্পষ্ট করে দিয়েছে—গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনও আলোচনা বা সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না।






