রাজনৈতিকভাবে বহুল চর্চিত ‘ডিজে মন্তব্য’ মামলায় শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এল। কণ্ঠস্বরের নমুনা (ভয়েস স্যাম্পল) দেওয়ার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুনানির সময় বিচারপতি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং জানান, আদালতের দেওয়া অন্তর্বর্তী সুরক্ষার শর্তই ছিল তদন্তে সহযোগিতা করা। সেই শর্ত ভঙ্গ হলে আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে বলে আদালত স্পষ্ট বার্তা দেয়।
শুনানির সময় অভিষেকের আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেল তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজির হয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেন, তদন্তে যাওয়ার সময় যেন কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয় এবং কেউ যাতে ডিম বা অন্য কোনও বস্তু নিক্ষেপ করতে না পারে, সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
এই আবেদনের পর আদালত রাজ্য পুলিশকে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, তদন্ত চলাকালীন কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাজ্য পুলিশের দায়িত্ব।
এদিন শুনানিতে অভিষেকের পক্ষের আইনজীবী আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট অডিয়ো রেকর্ডিংয়ে থাকা কণ্ঠস্বর নিয়ে তাঁদের আপত্তি নেই। তবে আদালত জানিয়ে দেয়, মৌখিক স্বীকারোক্তি এবং তদন্তের স্বার্থে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য ভয়েস স্যাম্পল দেওয়া— এই দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতেই হবে।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর মামলাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা, ভয়েস স্যাম্পল সংগ্রহ এবং নিরাপত্তার আবেদন— সব মিলিয়ে ‘ডিজে মন্তব্য’ মামলা ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।







