বারুইপুরের সূর্যপুরে নিহত যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যুর ছয় দিন পরও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি তাঁর পরিবার। শনিবার নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শোকাহত বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন সরকারি সুবিধার কথা জানান তিনি।
সরকারের তরফে ইন্দ্রজিতের বাবা ও মায়ের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিহতের দাদা বাপি মণ্ডলকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে। তাঁর কর্মস্থল হবে সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়ি। এছাড়াও দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবারের জন্য বার্ধক্যভাতা, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা এবং নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর আবেগঘন কণ্ঠে ইন্দ্রজিতের বাবা বলেন, “সরকার অনেক সাহায্য করেছে। টাকা দিয়েছে, বড় ছেলের চাকরির ব্যবস্থা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন এই টাকা ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখতে। কিন্তু আমার ছেলেকে তো আর ফিরিয়ে দিতে পারবে না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন ছেলেকে আটকে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। বারবার নিষেধ করলেও অভিযুক্তরা জোর করে তাকে টেনে নিয়ে যায়। সেই অসহায় মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ইন্দ্রজিৎকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কিন্তু এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।”
সরকারি সহায়তা কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় শূন্যতা থেকে গেছে ইন্দ্রজিতের অনুপস্থিতি। আর্থিক সহযোগিতা, চাকরি বা সরকারি প্রকল্প— কোনও কিছুই তাঁদের কাছে সন্তানের অভাব পূরণ করতে পারবে না।







