বোলপুরের শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হস্তশিল্পীদের হাট টিকিয়ে রাখতে এবার জাতীয় পরিবেশ আদালতের (এনজিটি) শরণাপন্ন হলেন হস্তশিল্পী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। একদিকে বন ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রশ্ন, অন্যদিকে কয়েক হাজার শিল্পী ও ছোট ব্যবসায়ীর জীবিকার বিষয়—এই দুইয়ের সংঘাতকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
সম্প্রতি হাটের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন হস্তশিল্পী ও ব্যবসায়ী এনজিটিতে আবেদন করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সোনাঝুরির হাটকে অবৈধ বলা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের পরিচয়পত্র, রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং হস্তশিল্প দপ্তরের অনুমোদিত শংসাপত্র-সহ প্রয়োজনীয় বৈধ নথি নিয়ে ব্যবসা করে আসছেন।
আবেদনকারী রাসিদুল মোল্লা, মহম্মদ আবদুল ফজল ও সমাপ্তি দেবনাথ-সহ অন্যান্য শিল্পীদের দাবি, এই হাট বন্ধ হয়ে গেলে হাজার হাজার শিল্পী, কারিগর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বহু পরিবার সম্পূর্ণভাবে এই হাটের আয়ের উপর নির্ভরশীল। তাই জীবিকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তের অভিযোগ, বনদপ্তরের জমিতে বন সংরক্ষণ আইন উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চলছে। তাঁর দাবি, জঙ্গলের মধ্যে অসংখ্য দোকান বসানো, নির্বিচারে চারচাকা গাড়ির প্রবেশ, প্লাস্টিকের ব্যবহার, অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলা, গাছের ক্ষতি এবং বিভিন্ন জায়গায় কংক্রিটের নির্মাণের ফলে সোনাঝুরির বনাঞ্চলের পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি জাতীয় পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
বর্তমানে সোনাঝুরি হাটের বৈধতা এবং তার পরিবেশগত প্রভাব—এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করেই এনজিটিতে শুনানি চলছে।
প্রসঙ্গত, ২০০০ সালের দিকে স্থানীয় কয়েকজন আদিবাসী শিল্পী সপ্তাহে একদিন, শুধুমাত্র শনিবার, সোনাঝুরির খোয়াই এলাকায় নিজেদের হাতে তৈরি শিল্পসামগ্রী বিক্রির উদ্দেশ্যে বসতেন। আশ্রমকন্যা শ্যামলী খাস্তগীরের উদ্যোগে সেই ছোট্ট হাটের পথচলা শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাটের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ২০১৬-১৭ সালের পর থেকে হাটের পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং বাইরের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণও অনেক বেড়ে যায়।







