ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে একের পর এক দলবদলের জল্পনা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক নেতার দলত্যাগ ও পদত্যাগের পর এবার নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নাম।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই ব্রাত্য বসুকে দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বা কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে খুব একটা দেখা যায়নি। সেই সূত্র ধরেই জোর গুঞ্জন, তিনি নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শিবিরের দিকে ঝুঁকতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে ব্রাত্য বসু নিজে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি।
এর আগেই রাজ্যসভা থেকে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছিল। একই সময়ে কোয়েল মল্লিকও ইস্তফাপত্র জমা দেন। পরে তিনি রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি. পি. রাধাকৃষ্ণণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দেয়।
এই আবহেই বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে দলত্যাগ প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, যাঁদের বিভিন্ন সংস্থার চাপের কারণে দল ছাড়ার ইচ্ছা রয়েছে, তাঁরা যেন ২১ জুলাইয়ের আগেই সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর কথায়, দল ছেড়ে কেউ চলে গেলে তৃণমূল দুর্বল হবে না।
এদিকে রাজনৈতিক মহলে আরও জল্পনা, রাজারহাটের প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায় এবং মানবাজারের প্রভাবশালী আদিবাসী নেত্রী সন্ধ্যারানি টুডুও ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
অন্যদিকে বিরোধী দলনেতাও দাবি করেছেন, আগামী দিনে তৃণমূলে আরও বড় ভাঙন দেখা যেতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কে কোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের প্রধান নজরকাড়া বিষয়।







