আষাঢ়ের শেষ লগ্নে ফের বৃষ্টির জোড়া ইনিংসের পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সপ্তাহান্ত জুড়ে উত্তর ও দক্ষিণ—দুই বঙ্গেই দফায় দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বর্ষণ, আবার কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফলে উল্টোরথের আগে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় নাজেহাল হতে পারেন সাধারণ মানুষ।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সারাদিন আকাশ মেঘলা থাকবে। দফায় দফায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েকটি এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ থাকায় বৃষ্টি থামলেই ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি অনুভূত হবে।
দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পূর্ব-পশ্চিম বর্ধমান জেলায় বজ্রঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় টানা বর্ষণের জেরে ধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি তিস্তা, তোর্সা ও জলঢাকা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় নিচু এলাকায় জল জমা বা প্লাবনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া পাহাড়ি পথে যাতায়াত না করার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। মালদা এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা বজায় থাকবে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরের উপর সৃষ্টি হওয়া অনুকূল আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে সমুদ্রও উত্তাল থাকতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যা দমকা হাওয়ার সময় ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।







