পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সংশোধন কর্মসূচি (এসআইআর) চলাকালীন জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু নিয়ে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
কলকাতা পুরসভার ১, ২ ও ১০ নম্বর বরোর পাশাপাশি হাবরা, গোবরডাঙা এবং অশোকনগর পুরসভাতেও তদন্তকারী দল পৌঁছে নথিপত্র খতিয়ে দেখছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যুর পুরো প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী হয়েছে কি না তা যাচাই করা এবং কোথাও কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে তার উৎস চিহ্নিত করা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। তিনি জানিয়েছেন, তদন্তে যদি প্রমাণ হয় কোনও সরকারি আধিকারিক ইচ্ছাকৃতভাবে অনিয়ম করেছেন বা জালিয়াতিতে যুক্ত ছিলেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে এই অভিযান শুধু নথি যাচাইয়ে সীমাবদ্ধ নয়, দায়ীদের চিহ্নিত করাও প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।
সম্প্রতি জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র যাচাইয়ের সময় রাজ্য প্রশাসনের হাতে একাধিক ভুয়ো শংসাপত্রের তথ্য আসে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলা থেকে এমন নথি উদ্ধার হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এরপরই গোটা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র সংক্রান্ত আইনে সংশোধন আনা হয়েছে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে এমন কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে জাল শংসাপত্র তৈরি বা ব্যবহার রোধ করা যায়।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হল, জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র নিবন্ধনের প্রতিটি ধাপ আইন মেনে সম্পন্ন হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা। সেই কারণে শুধু পুরসভা নয়, বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতেও নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোথাও নিয়ম লঙ্ঘন, তথ্য গোপন বা জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, ভবিষ্যতে তদন্ত আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য পুলিশ। গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পুরসভার দফতরে সংরক্ষিত জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে এ ধরনের কোনও অভিযোগ বা তদন্তের প্রয়োজন হলে সংরক্ষিত নথির ভিত্তিতে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।







