দিল্লি জল বোর্ডের একাধিক স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ ঘিরে টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগে বড় পদক্ষেপ করল দুর্নীতি দমন শাখা (ACB)। এই মামলায় আম আদমি পার্টির নেতা তথা দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন CEO উদিত প্রকাশ রাই, প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা অঙ্কিত শ্রীবাস্তব, A.N. Enterprises-এর মালিক নাগেন্দ্র যাদব, Euroteck Environment Pvt Ltd-এর মালিক রাজা কুমার কুরা এবং Srijanhar-এর মালিক পঙ্কজ বর্মা।
ডিরেক্টরেট অফ ভিজিল্যান্সের অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল তদন্ত। ACB-র দাবি, জল বোর্ডের STP-গুলির কাজের টেন্ডারে এমন কিছু শর্ত রাখা হয়েছিল, যা নির্দিষ্ট একটি বেসরকারি সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার মতো করে তৈরি করা হয়েছিল।
তদন্তে বিশেষভাবে Euroteck Environment Pvt Ltd-এর নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ, টেন্ডারের প্রযুক্তিগত শর্তে এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, যার ফলে প্রতিযোগিতা কমে যায় এবং ওই সংস্থা অন্যায্য সুবিধা পায়।
এছাড়াও প্রস্তাবিত পাইলট স্টাডি না করা, নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহারে অস্বাভাবিক বিধিনিষেধ, পরিশোধিত বর্জ্যজলের প্রয়োজনীয় কিছু মানদণ্ড বাদ দেওয়া এবং টেন্ডার প্রকাশের পর প্রযুক্তিগত শর্ত পরিবর্তনের মতো একাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখছে ACB।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই অনিয়মের জেরে সরকারি কোষাগারের উপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক বোঝা তৈরি হয়েছিল। মামলায় দুর্নীতি দমন আইনের একাধিক ধারার পাশাপাশি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৯, ৪১৮ এবং ১২০-B ধারায় মামলা করা হয়েছে।
সত্যেন্দ্র জৈন-সহ ছয়জনের গ্রেফতারের পর এই জল বোর্ড টেন্ডার মামলায় তদন্ত আরও জোরদার হল। তবে অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।







