রাজ্য

শিরোনাম: দুর্গাপুজোর থিমে আপত্তি নেই, ‘বিকৃত শিল্পকলা’ নিয়ে সরব বিশ্ব হিন্দু পরিষদ

বর্তমানে দুর্গাপুজোয় থিমের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। কোথাও মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ, আবার কোথাও সাম্প্রতিক কোনও ঘটনা বা বিশেষ ভাবনাকে কেন্দ্র করে সাজানো হচ্ছে পুজো প্রাঙ্গণ। মণ্ডপ তৈরিতেও দেখা যাচ্ছে নানা ধরনের অভিনব পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এরই মধ্যে দুর্গাপুজোর থিম নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রথম দুর্গাপুজোয় কলকাতার পুজোয় কি থিমের মণ্ডপ দেখা যাবে না? সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় সেই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মার্গ দর্শকমণ্ডলীর সদস্য নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী।

নির্গুণানন্দের বক্তব্য, থিম নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। তাঁর কথায়, থিমের মাধ্যমে উন্নত শিল্পকলার প্রকাশ ঘটে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সেই শিল্পকলাই বিকৃত রূপ নেয় বলে অভিযোগ তাঁর। তাই সেই ধরনের থিমেরই বিরোধিতা করছেন তাঁরা। তাঁর দাবি, থিমের নামে ডিম কিংবা জুতোর মতো কোনও বস্তু দিয়ে মণ্ডপ তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। পুজোর সঙ্গে যার কোনও যোগ নেই, এমন বিষয়কে মণ্ডপের থিম হিসেবে তুলে ধরার বিরোধিতা করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তাঁর মতে, সনাতনী ভাবধারা অনুসরণ করে ভারতের বিভিন্ন মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি করা যেতে পারে। কারণ, দেবী প্রতিমা মন্দিরেই অবস্থান করেন।

দুর্গাপ্রতিমার রূপ নিয়েও নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করেছেন নির্গুণানন্দ। তাঁর মতে, প্রতিমা তৈরি করতেই হবে সাবেকি ধাঁচে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তবে প্রতিমার শালীনতা বজায় রাখা জরুরি। দেবীর মধ্যে মাতৃত্বের ভাব থাকা প্রয়োজন এবং কোনওভাবেই প্রতিমাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। তাঁর অভিযোগ, কখনও কখনও থিমের ভাবনায় দুর্গাকে বিধবার পোশাকে দাঁড় করানো হচ্ছে, আবার দেবীর হাতে থাকা অস্ত্র সরিয়ে তার জায়গায় অন্য কিছু বসানো হচ্ছে। সনাতন ধর্মে যেভাবে দেবীর বর্ণনা রয়েছে, সেই ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আধুনিকতার সংমিশ্রণ ঘটানো যেতে পারে বলে জানান তিনি। তবে দেবীর পোশাক এবং থিমে মাতৃত্বের ভাব যেন বজায় থাকে, সেটিই তাঁদের মূল বক্তব্য।

পুজোর সময় আমিষ খাবার বিক্রি ও খাওয়াকে ঘিরেও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন নির্গুণানন্দ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলার সমস্ত দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার বন্ধ করার দাবি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নয়। তবে পুজোমণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবার বিক্রি বা খাওয়া কোনওভাবেই করা উচিত নয় বলে তাঁদের মত। মাতৃপ্রতিমার চারপাশে যাতে আমিষের কোনও ছোঁয়া না থাকে, তা নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। ক্ষমতার পালাবদলের পর এটাই রাজ্যে প্রথম দুর্গাপুজো। তার আগেই থিম, প্রতিমার রূপ এবং পুজোমণ্ডপের পরিবেশ নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এই অবস্থান ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। সংগঠনের বক্তব্য সামনে আসার পর ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন পুজো উদ্যোক্তারাও।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.