চিকিৎসার নামে প্রতারণা, রোগীর পরিবারের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা আদায় এবং শেষ পর্যন্ত রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ—চাঞ্চল্যকর এই মামলায় বড়সড় রায় দিল আদালত। ভুয়ো চিকিৎসক বজলুর রহমানকে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে। বারাসত থানা এলাকার বাসিন্দা অর্চনা রায়ের বাবা নিখিল চন্দ্র রায় (৫০) দীর্ঘদিন ধরে মাথার সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ইকো পার্ক থানা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। সেখানে বজলুর রহমানের অধীনে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়।
অভিযোগ, চিকিৎসা চলাকালীন রোগীর পরিবারকে জানানো হয়, অপারেশনের জন্য ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। পরিবারের তরফে সেই টাকা জমা দেওয়া হয় এবং ৩ জুলাই অপারেশনের তারিখ নির্ধারিত হয়।
কিন্তু অপারেশনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ১২ জুলাই মৃত্যু হয় নিখিল চন্দ্র রায়ের। এরপরই চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। ঘটনার তদন্ত চেয়ে ১৭ আগস্ট ইকো পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অর্চনা রায়।
অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেন তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর, বর্তমানে ইন্সপেক্টর জোনাকি বাগচী। তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়ির চালকদের টাকা দিয়ে রোগী সংগ্রহ করত বজলুর। এরপর হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসার নামে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হত। অপারেশনের কথা জানিয়ে আরও টাকা আদায় করা হত বলেও তদন্তে অভিযোগ উঠে আসে।
পুলিশের দাবি, প্রতারণার এই চক্রে একাধিক রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। কারও জ্ঞান ফিরলেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি, আবার কোনও কোনও রোগীর মৃত্যুও হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।
দ্রুত তদন্ত শেষ করে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর মাত্র তিন মাসের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। এরপর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সদ্য মামলার রায় ঘোষণা করে আদালত।
আদালত অভিযুক্ত বজলুর রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে।
চিকিৎসার নামে প্রতারণার এই ঘটনা ফের সামনে এনে দিল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—অসুস্থ প্রিয়জনকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার আগে চিকিৎসক ও হাসপাতালের স্বীকৃতি যাচাই করছেন তো?







