‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের দ্বন্দ্ব এবার পৌঁছে গেল চূড়ান্ত পর্যায়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী গোষ্ঠী—দুই পক্ষই দলের নির্বাচনী প্রতীকের উপর নিজেদের অধিকার দাবি করেছে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগে শনিবার এই ইস্যুতেই দু’পক্ষের বক্তব্য শুনবে নির্বাচন কমিশন।
দিল্লিতে সকাল ১১টায় প্রথমে ঋতব্রত শিবিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুনানি হবে। এরপর দুপুর ১২টায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর প্রতিনিধিদের বক্তব্য শুনবে কমিশন। দুই পক্ষ থেকেই সর্বাধিক পাঁচজন করে প্রতিনিধি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন।
কালীঘাট তৃণমূলের হয়ে কমিশনের শুনানিতে উপস্থিত থাকার কথা রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন, লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যসভার উপদলনেতা সাগরিকা ঘোষ এবং প্রাক্তন সাংসদ সাকেত গোখলে-সহ এক আইনজীবীর। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের প্রতিনিধিদলে থাকবেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, আখরুজ্জামান-সহ আরও একজন।
শুক্রবারই ঋতব্রতরা দলবল নিয়ে দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন। দলের প্রতীক এবং ‘প্রকৃত তৃণমূল’ হিসেবে নিজেদের স্বীকৃতির দাবিকে কেন্দ্র করেই কমিশনের কাছে দু’পক্ষের এই শুনানি।
রাজনৈতিক মহলের নজর এখন শনিবারের বৈঠকের দিকে। প্রশ্ন উঠছে, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগেই কি ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে নির্বাচন কমিশন? সময়ের নিরিখে এই শুনানি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার মাত্র তিন দিন আগে কমিশনের এই তৎপরতা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার দখলে থাকবে, শনিবারের শুনানির পরই কি সেই বিষয়ে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে—এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।







