জেলা

আরজি করের পর এবার তামান্না মামলা? নতুন সরকারের পদক্ষেপে বাড়ছে আশার আলো, মুখ খুললেন নিহতার মা

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক মহলে তৎপরতা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী পদে Suvendu Adhikari দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক বহুচর্চিত মামলার ফাইল ফের খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর সেই তালিকার শীর্ষেই উঠে এসেছে বহুল আলোচিত RG Kar Medical College and Hospital rape and murder case।

ইতিমধ্যেই ওই মামলার তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে তিনজন হেভিওয়েট আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপে শুধু আরজি করের নির্যাতিতার পরিবারই নয়, কালীগঞ্জে নিহত নাবালিকা তামান্নার পরিবারও নতুন করে ন্যায়বিচারের আশা দেখতে শুরু করেছে।

শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দেন, আরজি কর মামলায় আগের সরকারের ভূমিকা, প্রশাসনিক নির্দেশ এবং যোগাযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর বক্তব্য, “ফোন রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট—সব কিছুই তদন্তের আওতায় আনা হবে। কার নির্দেশে কী হয়েছিল, সব সামনে আসবে।”

এই মন্তব্যের পরই নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কালীগঞ্জের নিহত কিশোরী তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। গত বিধানসভা নির্বাচনে Communist Party of India (Marxist) প্রার্থী হিসেবেও লড়েছিলেন তিনি। যদিও নির্বাচনে জয় পাননি, মেয়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে তাঁর লড়াই থামেনি।

সাবিনা বলেন, “আরজি করের ফাইল যখন খোলা হচ্ছে, তখন আমার মেয়ের ফাইলও খোলা হোক। তিনজন পুলিশ অফিসার সাসপেন্ড হয়েছেন মানেই নিশ্চয়ই তদন্তে কিছু উঠে এসেছে। তাই আমরাও আশায় আছি।”

তিনি আরও জানান, আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের সঙ্গে তিনি পুনরায় যোগাযোগ করেছেন এবং বিষয়টি বিধানসভায় তোলার অনুরোধ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে All India Trinamool Congress-এর বিজয় মিছিল চলাকালীন বোমা বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল ছোট্ট তামান্নার। অভিযোগ উঠেছিল, পরিকল্পিতভাবে বিরোধী সমর্থকদের লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়।

অন্যদিকে, আরজি কর মামলার নির্যাতিতার মা-ও তামান্নার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনার চেষ্টা করবেন।

আরজি করের পর এবার কি তামান্না মামলার ফাইলও খুলবে? নতুন সরকারের পদক্ষেপে সেই জল্পনাই এখন তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। দুই পরিবারই এখন একটাই অপেক্ষায়— সত্য সামনে আসুক, বিচার হোক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.