রাজনীতি

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে স্বস্তি মিলন প্রধানের, ১২ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি পদক্ষেপে হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞা

কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে কিছুটা স্বস্তি পেলেন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তাঁর আইনজীবী জানান, মিলনের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি শুনে আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ওই কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না। নতুন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তারও করা যাবে না।

প্রায় ১৯ বছর পুরনো মামলায় পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের সময় খুন, খুনের চেষ্টা, বেআইনি জমায়েত এবং লুটপাটের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি এবং খেজুরি থানায় একটি মামলা রয়েছে। নন্দীগ্রাম থানার মামলায় ৫ অক্টোবর এবং খেজুরি থানার মামলায় ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী। এরপরই রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।

বৃহস্পতিবার শুনানিতে মিলনের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, এর আগে আদালতের নির্দেশ ও নথিভুক্ত বক্তব্যকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের তরফে আদালতকে জানানো হয়েছিল মিলনের বিরুদ্ধে আর কোনও মামলা বিচারাধীন নেই। অথচ পরবর্তীতে তাঁকে আরও একটি মামলায় যুক্ত করা হয়েছে এবং সেই মামলায় ৭ অক্টোবর পর্যন্ত হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার রাজ্যের বক্তব্য তুলে ধরে জানান, শুনানির আগেই ওই মামলায় মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ১৯ তারিখ গ্রেপ্তারের পর ২১ তারিখ বিষয়টি আদালতের নজরে আসে এবং ২২ তারিখ শুনানি হয়।

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন, রাজ্যের তরফে আগে জানানো হয়েছিল যে গ্রেপ্তারির মামলাটি ছাড়া মিলনের বিরুদ্ধে আর কোনও মামলা বিচারাধীন নেই। তাহলে ওই পাঁচটি মামলা ছাড়াও অন্য একটি মামলায় তাঁকে কেন আটক করা হল?

রাজ্যের তরফে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট মামলায় আগেই কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শুনানিতে আদালত আরও জানতে চায়, ২০২১ সালে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়ে থাকলে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেই কেন মিলনকে গ্রেপ্তার করা হল। রাজ্যের বক্তব্য, ওই মামলাগুলি পূর্বতন সরকারের সময়ে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে উপনির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাই কোর্ট নির্দেশ দেয়, আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না। ফলে জেলবন্দি নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী আপাতত কিছুটা স্বস্তি পেলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.