রাজ্য

সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ মহুয়া মৈত্রের, ভোটার তালিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বৃহস্পতিবার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে তিনি অভিযোগ জানান।

এই অভিযোগের সূত্রপাত ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া অন্তত ১৪টি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী। তাঁদের বক্তব্য, তাঁদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা না করেই এবং কমিশনের অন্য সদস্যদের অন্ধকারে রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ জানানোর পর মহুয়া মৈত্র মূলত তিনটি বিষয় সামনে আনেন।

প্রথমত, কোনও নিয়ম সংশোধন না করেই নতুন ভোটারদের জন্য ব্যবহৃত ‘ফর্ম-৬’-এ একটি নতুন প্রশ্ন যুক্ত করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ওই প্রশ্নে আবেদনকারীর বাবা, মা, ঠাকুরদা বা ঠাকুরমার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৩৩ লক্ষ বৈধ ভোটারকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের করা মামলা বা আপিলের বিষয়টি দুই নির্বাচন কমিশনার সান্ধু ও জোশীকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ মহুয়ার। তাঁর দাবি, কার অনুমতিতে ওই আপিল করা হয়েছিল, তা জানতে লিখিতভাবে প্রশ্ন তোলা হলেও সিইসির তরফে কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি।

তৃতীয়ত, ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগও তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর দাবি, কমিশনের ডিজি সীমা খান্নাকে সঙ্গে নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এমনভাবে ভোটার তালিকা পরিচালনা করেছেন, যাতে বুথ স্তরের আধিকারিক বা ইআরও-রা নথি যাচাই করে যাঁদের নাম বৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, তাঁদের কয়েকজনের নাম পরবর্তী সময়ে ব্যাকএন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালে কেন্দ্রের আনা আইনি সুরক্ষাকবচ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মহুয়া। তাঁর বক্তব্য, কমিশনের যৌথ ও সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেই ওই সুরক্ষা প্রযোজ্য। কিন্তু দুই নির্বাচন কমিশনারের লিখিত আপত্তি এবং নথিভুক্ত মতামত উপেক্ষা করে যদি কোনও সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ওই সুরক্ষাকবচ কার্যকর হবে না বলেই তাঁর দাবি। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিইসির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কমিশনের সমস্ত সিদ্ধান্তই পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.