রাজনীতি

৬ মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন মিলনের, ২০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলের বাইরে থেকেই লড়বেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে বড়সড় স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। ছ’টি মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেলেন তিনি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলের বাইরে থাকতে পারবেন মিলন। ২১ অক্টোবর তাঁকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। ফলে জেলের বাইরে থেকেই আসন্ন উপনির্বাচনে লড়াই করার সুযোগ তৈরি হল তাঁর সামনে।

মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। মিলনের আবেদন শুনে ২০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন বিচারপতি। তবে জামিনের সঙ্গে একাধিক শর্তও জুড়ে দিয়েছে আদালত। নিজের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট থানার তদন্তকারী আধিকারিকদের দিতে হবে মিলনকে। পাশাপাশি ২০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন দু’বার তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে পারবেন পুলিশ আধিকারিকরা।

খেজুরি থানার দু’টি এবং নন্দীগ্রাম থানার চারটি—মোট ছ’টি মামলায় এই অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়েছে। মিলনের আইনজীবীরা আদালতে জানান, উপনির্বাচনের প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য তাঁর জামিন অত্যন্ত প্রয়োজন। সেই কারণেই মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়।

এর আগে গত সপ্তাহে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসেই প্রথমবার জামিনের আবেদন জানানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে বিচারপতি জানিয়েছিলেন, মিলনকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত এবং তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু ছ’টি মামলার মধ্যে চারটির শুনানি সম্পূর্ণ হলেও বাকি দু’টি মামলার শুনানি না হওয়ায় সেদিন চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। সোমবার সেই দুই মামলার শুনানিও পিছিয়ে যায়। অবশেষে এদিন ছ’টি মামলাতেই অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী।

২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া মামলাগুলির সূত্রেই গ্রেফতার করা হয়েছিল মিলনকে। তাঁর বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, বেআইনি জমায়েত, লুটপাট-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এর আগে মিলনের বিরুদ্ধে থাকা আরও কয়েকটি পুরনো মামলা নিয়েও কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি হয়েছে। রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়েছিল, ছ’টি মামলার মধ্যে পাঁচটি আগের সরকারের আমলেই প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পাশাপাশি একটি মামলার এফআইআর-এ অভিযুক্ত হিসেবে মিলনের নামই ছিল না। ওই মামলাগুলির ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও পদক্ষেপ না করার বিষয়টিও আদালতের বিবেচনায় এসেছিল।

মিলনের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই পুরনো মামলাকে সামনে এনে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই অভিযোগ তুলেছেন মিলনের মেয়েও। নিজেকে জেন জি প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরে বাবার গ্রেফতারি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।

যদিও পুলিশ ও রাজ্যের বক্তব্য, পুরনো মামলায় আদালতের জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতেই মিলনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই বিতর্কের মধ্যেই হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী জামিনে আপাতত স্বস্তি পেলেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী। স্বস্তি মিলেছে কংগ্রেসের পাশাপাশি তাঁকে সমর্থন করা কালীঘাট তৃণমূল শিবিরেও।

ফলে আপাতত জেল থেকে বাইরে থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে মিলন প্রধানের সামনে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.