জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অন্দরে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দুই নির্বাচন কমিশনারের মতামতকে উপেক্ষা করার অভিযোগ ঘিরে আরও চাপে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে পাশ কাটিয়ে একচ্ছত্রভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে সম্মতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে মামলাটির শুনানি হতে পারে।
মামলায় আবেদন করা হয়েছে, অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হোক।
মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি শুনানির আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতি অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতেই গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু কমিশনের সাম্প্রতিক কাজকর্ম নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। তাঁর দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার যদি এককভাবে নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তাহলে তা সাংবিধানিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আগামী সপ্তাহে মামলাটি শুনবেন বলে জানান। সমাজকর্মী রাকেশ কুমার সিংয়ের পক্ষ থেকে দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলায় গত অক্টোবর থেকে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের নেওয়া সমস্ত সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত ফাইল ও নথি তলবের আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে সিট অথবা বিশেষ তদন্তকারী কমিটি গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন, বাদ দেওয়া এবং ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী। মামলাকারীদের বক্তব্য, এমন পরিস্থিতিতে কমিশনের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে যদি একজন ব্যক্তি এককভাবে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করেন, তাহলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই মৌলিক প্রশ্ন তৈরি হয়। মামলাকারীদের দাবি, অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের যাবতীয় কাজ বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরিচালিত হোক।







