পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও কৃষিক্ষেত্রের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন ভারতকে বড়সড় আশ্বাস দিল রাশিয়া। জ্বালানি থেকে শুরু করে সার—ভারতের প্রয়োজনীয় সরবরাহ বজায় রাখার পাশাপাশি তা আরও বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা নিয়ে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় উঠে আসে একাধিক বিষয়। এর মধ্যেই ভারতের কৃষিক্ষেত্রের জন্য সার সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করে দেন পুতিন।
পুতিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কিছুটা কমে যাওয়ার পর চলতি বছরে ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ফের বাড়ছে। একইসঙ্গে ভারতের কৃষকদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে সার সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই সরবরাহ অব্যাহত রাখার ব্যাপারে মস্কো প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
শুধু সার নয়, জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও ভারতকে আশ্বস্ত করেছে রাশিয়া। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তখন রাশিয়ার এই বার্তাকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে বৈঠকে শুধু রাশিয়ার কাছ থেকে সরবরাহ পাওয়ার বিষয়ই নয়, দুই দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ক্রমবর্ধমান ঘাটতি কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানা যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে ভারত-রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের পরবর্তী বৈঠকও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। একটি কিরগিজস্তানে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে এবং অন্যটি সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের সময় হওয়ার কথা।
সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে মস্কোর এই বার্তা ভারতের জন্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ বাড়লেও জ্বালানি ও কৃষির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সারের সরবরাহ সচল রাখার ক্ষেত্রে রাশিয়া যে ভারতের পাশে থাকতে চাইছে, পুতিনের বক্তব্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট।







