বিনোদন

অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে গবেষণার দুনিয়ায় মিথিলা! কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় দায়িত্ব, শুরু শিক্ষকতাও

অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি তো রয়েছেই, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। এবার সেই কর্মজীবনে যুক্ত হল আরও এক নতুন অধ্যায়। বাংলাদেশের অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা এবার আমেরিকার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে শিক্ষকতাও শুরু করেছেন। অভিনয় থেকে গবেষণা, উন্নয়নকর্ম থেকে অধ্যাপনা—মিথিলার পেশাগত যাত্রায় নতুন সংযোজন ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

মিথিলার কথায়, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ভিং ইনস্টিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল রিসার্চে তিনি অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করবেন। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্কের ‘আর্লি চাইল্ডহুড অ্যান্ড ফ্যামিলি হাব’ উদ্যোগের পরিকল্পনা ও মূল্যায়নে অংশ নেওয়া। জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশু এবং তাঁদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

গবেষণার কাজেও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে চান মিথিলা। শিশুদের বিকাশ, পরিবারকে সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় স্তরে স্বাস্থ্য ও পরিষেবা সংক্রান্ত কাজের মাধ্যমে এমন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা থাকবে, যা ভবিষ্যতে আরও কার্যকর কর্মসূচি তৈরিতে সাহায্য করতে পারে।

গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষকতার দায়িত্ব

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বের পাশাপাশি নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে অ্যাডজাঙ্কট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবেও কাজ করবেন মিথিলা। সেখানে তাঁর পড়ানোর বিষয় ননপ্রফিট ম্যানেজমেন্ট। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে অর্জিত অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি। তাত্ত্বিক শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতার যোগ তৈরি করাই এই শিক্ষকতার অন্যতম দিক।

ব্র্যাকের সঙ্গে প্রায় দুই দশকের সম্পর্ক

মিথিলার এই নতুন অধ্যায়ের পিছনে রয়েছে ব্র্যাকের সঙ্গে দীর্ঘ কর্মজীবন। প্রায় ২০ বছর এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এর মধ্যে প্রায় ১৫ বছর কাজ করেছেন ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ক্ষেত্রে। ব্র্যাকের আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের নেতৃত্বের দায়িত্বও সামলেছেন। নিজের পেশাগত বিকাশে এই প্রতিষ্ঠানের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন মিথিলা।

অভিনয়, উন্নয়নকর্ম—এবার গবেষণা ও অধ্যাপনা

মডেলিং দিয়ে কেরিয়ার শুরু করে টেলিভিশন, সিনেমা এবং ওটিটি—বিনোদন জগতের নানা ক্ষেত্রে কাজ করেছেন মিথিলা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ক্ষেত্রেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। এবার গবেষণা ও শিক্ষকতার দায়িত্ব তাঁর পেশাগত পরিচয়ে নতুন মাত্রা যোগ করল।

ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি পরিচিত টলিউড পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী হিসেবে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তাঁদের বিয়ে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা সামনে এলেও, প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমান সম্পর্কের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

তবে ব্যক্তিগত জীবনের আলোচনা থেকে আলাদা করে মিথিলার নতুন কর্মজীবন এখন বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। একদিকে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা, অন্যদিকে শিক্ষকতা—দুই দায়িত্বের মধ্য দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজে লাগানোর সুযোগ পেলেন তিনি। নতুন যাত্রার কথা জানিয়ে ব্র্যাকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার পাশাপাশি সকলের শুভকামনা ও দোয়া চেয়েছেন মিথিলা।

অভিনয়ের পর্দা থেকে গবেষণা ও শিক্ষার জগৎ—মিথিলার এই বহুমুখী পথচলার নতুন অধ্যায় এখন নিউইয়র্কে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.