সীমান্ত নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করতে তৎপর রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে রাজ্যের আন্তর্জাতিক সীমান্তের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের অগ্রগতি এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানোর বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিশেষ নজর দেওয়া হয় মালদহ ও মুর্শিদাবাদের কাঁটাতারবিহীন সীমান্ত এলাকাগুলির উপর।
জানা গিয়েছে, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই যে জমি বিএসএফকে দেওয়া হয়েছে, সেখানে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। কোন কোন এলাকায় বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে, কোথায় এখনও কাজ বাকি রয়েছে এবং কোথাও জমি সংক্রান্ত বা অন্য কোনও সমস্যা তৈরি হয়েছে কি না—এই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিএসএফের ডিজির সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
সীমান্ত পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে জমি দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমার। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের সহযোগিতার ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও মজবুত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, যেসব জায়গায় কাঁটাতারের বেড়ায় ফাঁক রয়েছে, সেগুলিও দ্রুত বন্ধ করার কাজ সহজ হবে।
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে বিশেষভাবে উঠে আসে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের সীমান্ত পরিস্থিতি। এখনও যেসব সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেখানে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। ওই এলাকাগুলিতে বিএসএফের অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থার বিষয়েও তাঁকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে খবর।
সূত্রের দাবি, মালদহ, মুর্শিদাবাদ-সহ উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি বিশেষ রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। ওই রিপোর্টে সীমান্ত সংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় উস্কানিমূলক কার্যকলাপ বাড়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দফতরের রিপোর্টেও সীমান্তের ওপার থেকে পরিস্থিতি অশান্ত করার জন্য উস্কানি দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
এই বিষয়টিও এদিনের বৈঠকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী ও বিএসএফের ডিজি। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যেই কী ধরনের পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং আগামী দিনে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে বিএসএফ সূত্রে খবর।







