কখনও কখনও ক্রিকেট শুধু পরিসংখ্যানের খেলা নয়—তা হয়ে ওঠে চাপের, মেজাজের, আর মুহূর্তের। মঙ্গলবার কলম্বোর গরমে যখন তাজমিন ব্রিটসের শতরান দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয়ের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছিল, তখনই ভারতীয় স্পিনার স্নেহ রানা দেখালেন অভিজ্ঞতা আর ধৈর্যের নিখুঁত উদাহরণ। ব্যাট হাতে স্মৃতি মান্ধানা ও প্রতিকা রাওয়ালের দৃঢ় ভিত এবং বল হাতে রানার দুরন্ত স্পেল মিলিয়ে ভারত তুলে নিল এক স্মরণীয় জয়।
ভারতের ২৭৬ রানের সংগ্রহ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তাদের তৃতীয় সর্বোচ্চ। ওপেনিংয়ে মান্ধানা-রাওয়ালের ৮৩ রানের জুটি, রাওয়ালের ধারাবাহিক পঞ্চম ফিফটি-প্লাস ইনিংস ও হরমনপ্রীত কৌর ও জেমিমা রডরিগজের দায়িত্বপূর্ণ ৪১ রানের ইনিংস দলের ভিত মজবুত করে। শেষ দশ ওভারে রিচা ঘোষের ১৪ বলে ২৪ রানে ভারত তোলে অতিরিক্ত ৮২ রান, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৩টি ওয়াইড অতিরিক্ত সুবিধা দেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা দুর্দান্ত শুরু করলেও, ব্রিটসের চোট ও মাঠ ত্যাগ পুরো দৃশ্যপট বদলে দেয়। ১৪০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যাওয়ার পর স্নেহ রানা বল হাতে নেমে আসেন দৃশ্যপটে। মাত্র এক ওভারে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে টালমাটাল করে দেন তিনি। শেষ ওভারে তাঁর হাতেই ম্যাচের নিয়তি—সেখানে ফের তিন উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ ঘোরান রানা।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ হয় ২৬১ রানে। ব্রিটস শতরান করেও হতাশ, কারণ ব্যাটিং অর্ডারে সমর্থন ছিল না। অপর প্রান্তে বাকি ব্যাটাররা একের পর এক ভেঙে পড়েন রানার ঘূর্ণিতে।
এই জয় শুধু পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা নয়, ভারতের জন্য ছিল মানসিক দৃঢ়তার এক নিদর্শন। যেখানে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে একটি স্পেলেই।






