নিজস্ব সংবাদদাতা : পুরাণ মতে কৃষ্ণ হলেন শ্রীবিষ্ণুর অষ্টম অবতার। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিই কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী নামে পালিত হয়।শ্রীকৃষ্ণের ছেলেবেলার রূপ গোপালের আরাধনা করা হয় জন্মাষ্টমীতে। তাই তাঁকে তুষ্ট করতে নানা ধরনের খাবারের আয়োজন করা হয় এদিন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দিরে প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি।মধ্যরাতে জন্ম হয় শ্রীকৃষ্ণের। তাই গোপালের মূর্তিকে নতুন বস্ত্র পরিয়ে মাখন-মিছরি সহযোগে ৫৬ ভোগ নিবেদন করার প্রথা রয়েছে।এই ৫৬ ভোগ হল ৫৬ রকমের পদ। কয়েক শতাব্দী ধরে জন্মাষ্টমীতে শ্রীকৃষ্ণকে ৫৬ ভোগ নিবেদন করার প্রথা রয়েছে আমাদের দেশে। কিন্তু জানেন কি, কেন জন্মাষ্টমীতে শ্রীকৃষ্ণকে ৫৬ ভোগ নিবেদন করা হয়?
জনমত অনুসারে, যখন ইন্দ্র ব্রজবাসীর উপর ভারী বৃষ্টিপাত করেন, তখন ভগবান কৃষ্ণ ব্রজবাসীদের রক্ষার্থে গোবর্ধন পর্বতটিকে আঙ্গুলের উপরে তুলেছিলেন। শ্রী কৃষ্ণ গোবর্ধন পর্বতটিকে আঙ্গুলের উপরে সাত দিন ধরে রেখেছিলেন, এই সময়ে ব্রজবাসী এবং প্রাণী ,পাখিরা গোবর্ধনের নীচে আশ্রয় নেন। সাত দিন পরে, যখন বৃষ্টি শেষ হয়েছিল, তখন তারা সকলেই গোবর্ধনের পর্বত থেকে বেরিয়ে আসেন।তাঁর জন্য রক্ষা পায় পুরো গোকূল।
পৌরাণিক মতে মা যশোদা ভগবান কৃষ্ণকে দিনে আটবার খাবার দিতেন। কৃষ্ণ আটবারই খাবার খেয়ে নিতেন। কিন্তু এই সাত দিন তিনি এক ফোঁটা খাবার বা জল মুখে দেননি। তাই মা যশোদা এবং সকলে মিলে আট ঘন্টা অনুসারে কৃষ্ণের জন্য ৫৬ রকমের ভোগ করেছিলেন। মূলত এর পর থেকেই ৫৬ টি ভোগ দেওয়ার রীতি শুরু হয়েছিল।
এই ছাপান্ন ভোগে ভক্তরা তাঁদের নিজস্ব সাধ্য বা পছন্দ অনুযায়ী ভোগের সিদ্ধান্ত নেন। এই ৫৬ টি ভোগের মধ্যে মাখন-মিছরি, ক্ষীর, বাদাম দুধ, টিক্কি, কাজু,বাদাম, পিঠা, রসগোল্লা, জিলেপি, লাড্ডু, রাবড়ি, মালপুয়া, মোহনভোগ, চাটনি, মুগ ডাল হালুয়া, পকোড়া, খিঁচুড়ি, বেগুনী, তালের বড়া, নানা ধরণের শাক-সবজি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।







