মহাভারত হিন্দুদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। এই পবিত্র গ্রন্থে মূলত দাপড় যুগীয় কাহিনী বর্ণনা রয়েছে। আমরা যারা মহাভারত জানি, তারা নিশ্চই কর্ণের কথা শুনেছি। কর্ণ ছিলেন মহাভারতের এক অন্যতম চরিত্র। কর্ণকে যেমন বীরত্বের জন্য আমরা সবাই জানি, তেমনি তিনি ছিলেন মহাদানী।
কর্ণ ছিলেন সূর্যদেব ও মাতা কুন্তীর পুত্র। মাতা কুন্তীর বিবাহ পূর্বে সূর্যদেবের বরে এক পুত্র সন্তান প্রাপ্তি হয়। কিন্তু মাতা কুন্তী সেই পুত্রকে ত্যাগ করে।
কর্ণের জন্মের সময় সূর্যদেব তাকে অজেয় করার জন্য কবজ ও কুন্ডল দিয়েছিলেন। এই কবজ – কুণ্ডল যেকোনো অস্ত্র থেকে কর্ণকে রক্ষা করতো। যার ফলে মহাভারতের যুদ্ধে কর্ণকে হারানো অসম্ভব ছিল।
মহাভারতের যুদ্ধে এই অপরাজেয় কবজ – কুণ্ডলকে কর্ণের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে দেবরাজ ইন্দ্র ছল করেছিলেন। কর্ণ প্রত্যহ সকালে সূর্যদেবের পুজো করে দান করতেন। এই সুযোগ নিয়ে ইন্দ্রদেব ব্রাহ্মন বেশ ধরে কর্ণের থেকে শক্তিশালী কবজ – কুণ্ডল ভিক্ষা চাইলেন। কর্ণ ইন্দ্রদেবকে তা দান করে দেয়। কিন্তু ছল করা ভিক্ষা দেবরাজ স্বর্গে নিয়ে যেতে না পারায় তা পৃথিবীতেই লুকিয়ে রেখে দিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে এটি চন্দ্রদেব নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সমুদ্রদেব বাঁধা দেন। এরপর থেকেই কবজ – কুন্ডলটি ওই স্থানেই আছে।
মনে করা হয়, এই কবজ – কুণ্ডল নাকি ওড়িশার কোনারক মন্দিরে আছে। কিন্তু তা কোথায় আছে সেই নিয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।






