সন্তান জন্মের পরেই তাকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্য দম্পতির হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মহারাষ্ট্রের নালাসোপাড়ায়। এই ঘটনায় এক চিকিৎসক-সহ ছ’জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালটিও সিল করে দিয়েছে প্রশাসন। কীভাবে সদ্যোজাতকে অন্য দম্পতির হাতে তুলে দেওয়া হল, এর পিছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, নালাসোপাড়ার সন্তোষভুবন এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ১৭ বছরের এক কিশোরী সন্তানের জন্ম দেয়। অভিযোগ, প্রসবের পরের দিনই ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে নবজাতককে এক নিঃসন্তান দম্পতির হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
### কীভাবে সামনে এল ঘটনা?
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্তান প্রসবের পর কিশোরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য তুলিঞ্জ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই গোটা বিষয়টি সামনে আসে বলে খবর। এরপরই ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ।
এই ঘটনায় কিশোরীর মা, প্রসব করানো চিকিৎসক শাহিন শেখ, এক মহিলা প্রতিবেশী, কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্কে থাকা ২২ বছরের এক যুবক এবং যে দম্পতির হাতে শিশুটিকে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্কে থাকা যুবকের বিরুদ্ধে পকসো আইনেও মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
সিল বেসরকারি হাসপাতাল
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালটি সিল করে দিয়েছে বসই-বিরার পুরনিগম। প্রসবের ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, নবজাতককে অন্য দম্পতির হাতে তুলে দেওয়ার পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র কাজ করেছে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে পুলিশের নজরে একাধিক প্রশ্ন
নবজাতককে কীভাবে অন্য দম্পতির হাতে তুলে দেওয়া হল, এই প্রক্রিয়ায় কার কী ভূমিকা ছিল এবং শিশুটির বর্তমান অবস্থান কোথায়—সবকিছুই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তাও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
তবে এখনও পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে গোটা ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।







