রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত চিন্তা বাড়াচ্ছে পুজোর আগে। ডেঙ্গি নিয়ে আতঙ্কপুরী হয়ে উঠছে কলকাতা সহ বিভিন্ন শহরতলি এবং জেলা।একদিকে যখন ডেঙ্গির মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সোমবার নবান্নে ৪টি জেলায়(হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা) জেলাশাসকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী অন্যদিকে ডেঙ্গি নিয়ে বেফাঁস’ মন্তব্য করলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ, যা কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে।
সূত্রের খবর, এদিন সাংবাদিকরা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে ডেঙ্গি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে তিনি প্রতুত্তরে জানান, ‘দেখুন, মশার জন্ম নিয়ন্ত্রণ, এটা একটা খুব জটিল এবং কঠিন বিষয়। এখন, মশা অতি অবুঝ প্রাণী। মানুষের মধ্যে জন্ম নিয়ন্ত্রণে যত সহজে প্রচার করা যায়, মশার মধ্যে তত সহজে প্রচার করা যায় না।’
তারপরই কুনাল বলেন, ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, রাজ্য সরকার, পুরসভা, স্বাস্থ্য দফতর, যা যা করার সবই করছে।পাশাপাশি, তিনি ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের নৈতিক কর্তব্যের কথাও তুলে ধরে বলেন, বাড়িতে বাগানে, ছাদে জল জমিয়ে রাখবেন না। জমা জলে যেন মশা জন্ম না নেয়। সরকারের পক্ষে সব ছাদ, বারান্দা, বাড়ি দেখা সম্ভব নয়। হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করা উচিত। অনেকে অন্য রাজ্য,এমনকি বাংলাদেশ থেকেও বহু ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে এখানকার হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তার প্রভাব পড়ছে এরাজ্যের ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যায়। রাজ্য এবং স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে ডেঙ্গি প্রতিরোধে যা করা উচিত সরকার তাই করছে।”
সূত্রের খবর, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ক্রমেই বাড়ছে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা। দক্ষিণ দমদম পুরসভায় এই মুহূর্তে প্রায় ৪৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গি আক্রান্ত ৮ হাজার ৫৩৫ জন। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ৫ হাজার ৪৪৬ ও গ্রামাঞ্চলে ২ হাজার ৯৫৬ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। গত এক সপ্তাহে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৮৬ জন। বিধাননগর পুর-এলাকায় ১ হাজার ৯১৬, দক্ষিণ দমদম পুরসভা এলাকায় ৯১৭, বারাসাত পুর-এলাকায় ২৩৯ জন আক্রান্ত। গ্রামাঞ্চলের মধ্যে আমডাঙা ব্লকে ৪৭৬, বনগাঁ ব্লকে ৬৩২, হাবড়া ২ নম্বর ব্লকে ৩৭৭, রাজারহাট ব্লকে ২৭৯ এবং দেগঙ্গা ব্লকে ১৯৯ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।।







