সোমবারের পর মঙ্গলবারও একই ছবি দেখা গেল লোকসভায়। অধিবেশন শুরু হতে না হতেই সংসদে তুমুল হট্টগোল শুরু হলে স্পিকার ওম বিরলা বিরোধী সাংসদের এহেন ভূমিকায় বিরক্ত প্রকাশ করে ফের একবার ৪৯ জনকে সাংসদকে সাসপেন্ড করেছিলেন। চলতি মাসে শীতকালীন অধিবেশনে এই নিয়ে প্রায় ১৪২ জন বিরোধী দলের সাংসদকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। যা ভারতের সংসদের ইতিহাসে বেনজির ঘটনা।
উল্লেখ্য, সংসদে স্মোক-বম্ব ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহ থেকেই উত্তাল গোটা রাজ্য রাজনীতি। এমনকি, সংসদের নিরাপত্তা ইস্যুতে আওয়াজ তুলে সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের দাবি, সংসদ কাণ্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিবৃতি দিক এবং সংসদে এই নিয়ে আলোচনা করা হোক।
লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে মোট ৭৮ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করার পর লোকসভায় অধিবেশনের শেষ পর্যন্ত ৪৯ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করেছিলেন লোকসভার স্পিকার। তাঁদের মধ্যে আছেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়, কংগ্রেসের শশী থারুর, মনীশ তিওয়ারি, এনসিপি-র সুপ্রিয়া সোলে, সমাজবাদী পার্টির ডিম্পেল যাদবরা। গতকাল লোকসভায় একসঙ্গে ৩৩ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করেন স্পিকার। তারপর রাজ্যসভা থেকেও ৪৫ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়।
সাংসদদের সাসপেনশন ইস্যুতে এবার বড় মন্তব্য করলেন বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতী। তিনি বলেন, “আমাদের দল বিশ্বাস করে যে বর্তমান সংসদ অধিবেশনে প্রায় ১৫০ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা বিরোধী দল বা সরকারের পক্ষে ভাল কাজ বা মাইলফলক নয়। সংসদীয় ইতিহাসের জন্য, এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং জনগণের বিশ্বাসের উপর আঘাত। এদিকে সংসদ প্রাঙ্গণে বরখাস্ত হওয়া সাংসদদের দ্বারা উপরাষ্ট্রপতির নকল করার ভিডিওটিও অনুপযুক্ত এবং অশালীন। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধের এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে গণতন্ত্র ও দেশের সংসদীয় ঐতিহ্যকে লজ্জায় ফেলা থেকে রক্ষা করা অপরিহার্য। বিরোধী-মুক্ত সংসদে অত্যাবশ্যকীয় বিলগুলি পাস করাও ভাল উদাহরণ নয়।“







