গরীবের রাজা রবিনহুড,এই নামটার সাথে আমরা প্রায় সকলেই পরিচিত। কখনো এই নামটি বিভিন্ন সিনেমায় তো কখনো কোন গল্পের চরিত্রে দেখে ও শুনে এসেছি এই কাল্পনিক চরিত্র বা নাম রবিনহুডের। ৩রা জানুয়ারি সন্ধ্যাায় নদীয়ার নবদ্বীপ শহরের প্রাণকেন্দ্র পোড়ামাতলা রোড, এলাকায় যেন শহর বাসী দেখলো এক জীবন্ত রবিনহুডকে।
হ্যাঁ তবে ইনি কারো থেকে ছিনিয়ে নয়, সকলের সাহায্য নিয়ে ও নিজের কষ্টার্যিত অর্থ দিয়ে পাঁচ শতাধিক বৃদ্ধ -বৃদ্ধা সহ অসহায় মানুষকে মিষ্টি মুখ করিয়ে একটি করে মোজা ও কম্বল তুলে দিলেন। পোড়ামাতলা রোড এলাকায়, একটি ছোটো টোঙ্গের দোকান, যেখানে নেই বসার জায়গাও। সারা দিন দাড়িয়েই চলে বেচা কেনা, বিক্রি হয় শুধু ঝালমুড়ি, বিক্রেতাকে নবদ্বীপ শহরের প্রায় সিংহ ভাগ মানুষ চেনেন পোশাকি নামে “ভ্যাবলা দা” হিসেবে৷ তার নাম সুব্রত সান্যাল। বাড়ি নবদ্বীপ শহরের রাম-সীতার পাড়া সংগ্লগ্ন এলাকায়। পরিবারে ভাই, ৮২ বছরের বৃদ্ধা মা, স্ত্রী আছেন। সদাই সৎ পথে রোজগারের জন্য দিনরাত খেটে চলেন সকলের এই ভ্যাবলা দা।
কিন্তু এই দোকান চালিয়ে এত মানুষের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেবার ভাবনাটা এলো কিভাবে? জানতে তার ৮২ বছরের বৃদ্ধা মা সাধনা সান্যাল জানান, ছোট থেকেই তার বড় ছেলে সুব্রত মানুষের জন্য কিছু না কিছু করার চেষ্টা করতো। তিনি নিজেও কখনো কখনো পুরোনো বা নতুন পোশাক তুলে দিনলতেন সাধ্যমতন। কখনো কোন মেয়ের বিয়ের জন্য কিছু। আর মানুষের জন্য কিছু করতে পেরে তারও ভাল লাগে, আর এখন তার ছেলেও মানুষের জন্য কিছু করে এটাতে তিনিও গর্ব অনুভব করেন বলেও জানান।
সুব্রত বাবুর এই কর্মযোজ্ঞের নাম “বিবেকের দান”। আর এই প্রচেষ্টা তৃতীয় বছরে পদার্পন করলো।
কিভাবে এই ভাবনা,আর এত কিছু কিভাবে সম্ভব হয়, প্রশ্নের উত্তরে সুব্রত বাবু জানান গত তিন বছর আগে এক বৃদ্ধা শীতে তার কাছে একটি কম্বল চায়, সে সময় নিজের পক্ষে সম্ভব না হলেও এক ব্যাক্তির সাহায্যে ওই বৃদ্ধাকে তিনি ত দিয়েছেন। আর ঐ জায়গা থেকেই তার মধ্যে এই কর্মসূচী নেবার চিন্তা আসে।
পাশাপাশি তিনি আরও জানান বিবেকের দান লেখা দুটি বাক্স রাখা আছে তার দোকানে। তার পার্শ্ববর্তী অমিত কুমার ঘোষের দোকানে, সারা বছর যে যা পারে ওখানে দান করেন, কেউ এক টাকা দেন তো কেউ পঞ্চাশ টাকা, অনেকে বলে খুচরো টাকা চলে না। সেক্ষেত্রে আমার কথা থাকে ওই বিবেকের দানে দিতে পারেন। আর তার এই কথায় শুধু নবদ্বীপ শহরের নয় নবদ্বীপের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকেও বহু মানুষ তাদের বিবেকে জাগ্রত করে সুব্রত বাবুর বিবেকের দানে সাহায্য করে থাকেন। তিনি জানান তার সারা বছরের রোজগারের কিছু কিছু সঞ্চয় করে ও কখনো কখনো ঝালমুড়ির সাথে সেফটিপিন, দড়ি, ইত্যাদিও বিক্রি করে তার থেকে কিছু অর্থ এই কর্মসূচীতে ব্যায় করেন।
৩ রা জানুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায় পাঁচ শতাধিক মানুষের মধ্যে মিষ্টি মুখ করিয়ে একটি করে কম্বল, মোজা ও পুস্পান্ন তুলে দেওয়া হয়৷ এদিনের এই কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন নবদ্বীপের বিধায়ক পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা, পৌর পতি বিমান কৃষ্ণ সাহা, সহ শহরের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যাক্তি।







