অবশেষে সমাপ্তি হলো এসএসসি দূর্নীতি মামলার শুনানি। যদিও এই মামলার রায়দান স্থগিত রাখল বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে মামলা চলার পর অবশেষে বুধবার শেষ হল নিয়োগ মামলার শুনানি। স্কুল নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়েছে গত ২ বছর ধরে। এখন এই নিয়োগ মামলায় আদালত কী রায় দেয় সেদিকেই নজর ‘প্রতারিত’ চাকরি প্রার্থীদের। এই ঘটনার জেরে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী-বিধায়ক।
অভিযোগ ওঠে, এসএসসি-র গ্ৰুপ সি, গ্ৰুপ ডি, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ মামলা বহু নিয়োগ বেআইনিভাবে করা হয়েছে। যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে অযোগ্যদের। আর এই ঘটনার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। কিন্তু, তদন্তে দেরি হওয়ার অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে। গত ৯ নভেম্বর এসএসসি দুর্নীতি মামলায় নতুন ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করে শীর্ষ আদালত। তদন্ত শেষ করতে ডেডলাইন বেঁধে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার আদালতে শুনানি চলাকালীন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও ফিরদৌস শামিম বলেন, “এটি সুপরিকল্পিত অপরাধ। শূন্যপদের চেয়েও বেশি সংখ্যক ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হয়েছে। এই বেআইনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা উচিত। ওই সব দুর্নীতির টাকা ফেরানোর ব্যবস্থা করা উচিত।” এই ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের দাবি জানান বিকাশ ভট্টাচার্য। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি দেবাংশু বসাক বলেন, “এই নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে ভাল কিছু খুঁজে পাওয়া কঠিন। অতিরিক্ত নিয়োগ সরাসরি বাতিল হওয়া উচিত।”
তবে, শীর্ষ আদালতের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বুধবার শেষ হয় এই মামলার শুনানি। এখন রায়দানের দিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।







