আর মাত্র দু’টি ম্যাচের অপেক্ষা। তারপরই পর্দা নামবে এবারের আইপিএলের। টুর্নামেন্টের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে ক্রিকেটার ও দলীয় সদস্যদের জন্য আরও একটি কড়া নির্দেশ জারি করল বিসিসিআই। চলতি মরশুমে বোর্ডের পক্ষ থেকে একাধিক নিয়ম চালু করা হয়েছে। কখনও ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত সঙ্গীদের নিয়ে বিধিনিষেধ, কখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট তৈরি নিয়ে কড়াকড়ি—সব মিলিয়ে এবারের আইপিএলে শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যোগ হল নতুন নিয়ম।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, আইপিএলের সময় ‘গার্লফ্রেন্ড সংস্কৃতি’ দলের পরিবেশ, শৃঙ্খলা এবং ম্যাচ প্রস্তুতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সেই কারণেই বান্ধবীদের ‘অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে টিম হোটেল, টিম বাস কিংবা ড্রেসিংরুমে তাঁদের উপস্থিতি এড়িয়ে চলার বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে খবর। যদিও বিসিসিআই আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনও নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি। তবে হার্দিক পাণ্ডিয়াসহ কয়েকজন ক্রিকেটার এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলেও শোনা যায়। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভ্লগ আপলোড বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল অর্শদীপ সিংকেও।
এবার নতুন করে জানানো হয়েছে, ক্রিকেটার কিংবা দলের অন্য সদস্যরা আর স্মার্ট সানগ্লাস ব্যবহার করতে পারবেন না। কারণ এই ধরনের চশমার মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং, মেসেজ পাঠানো, অডিও-ভিডিও কলের মতো নানা কাজ করা সম্ভব। বোর্ডের আশঙ্কা, ম্যাচ চলাকালীন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হতে পারে। সেই কারণেই আপাতত এই ডিভাইস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিরাট কোহলি থেকে অভিষেক শর্মা—অনেক ক্রিকেটারকেই মাঠে সানগ্লাস পরে দেখা যায়। তবে সাধারণ সানগ্লাস আর স্মার্ট সানগ্লাস আলাদা করে চেনা সহজ নয়।
বোর্ড কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। চলতি আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের ম্যানেজার রোমি ভিন্দেরকে ডাগআউটে বসে মোবাইল ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয় এবং অনেকে ম্যাচ গড়াপেটার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। সেই ধরনের বিতর্ক এড়াতেই বিসিসিআই এবার আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।







