রবিবার প্যারিস অলিম্পিকে এলো ভারতের প্রথম পদক। পদকের খাতা খুললেন মনু ভাকের। হরিয়ানার এই ২২ বছর বয়সী ধন্যি মেয়ে কমনওয়েলথ গেমসে পদক জেতার পর অলিম্পিকেও ভারতের নাম উজ্জ্বল করলেন। রবিবার ১০ মিটার এয়ার পিস্তল শুটিংয়ে তৃতীয় স্থানাধিকার করে ব্রোঞ্জ জেতেন। তবে মাত্র ০.০১ পয়েন্টের জন্য রুপো হাত ছাড়া হয়। ২২১.৭ পয়েন্ট নিয়ে টোকিও অলিম্পিকে পদক হাত ছাড়া হওয়ার দুঃখ কিছুটা মেটান। তিনি ভারতের প্রথম নারী হিসেবে শুটিংয়ে পদক আনেন।
২০০৮ সালের অভিনব বিন্দ্রার বেজিং সামার অলিম্পিকে সোনা জিতেছিলেন। তারপর ২০১২ সালের লন্ডনে সামার অলিম্পিকে গগন নারাং ব্রোঞ্জ পদক আনেন। এরপর দীর্ঘ ১২ বছর শুটিংয়ে পদক আসেনি। এবার সেই খড়া কাটালেন মানু ভাকের। যদিও রবিবার ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ইভেন্টে সোনা আর রূপা দক্ষিণ কোরিয়ার ঘরে আসে। তবে মনু ভাকেরের এই হয় সমগ্র দেশবাসী আনন্দিত। মাত্র ৬ বছর বয়স থেকেই তার শুটিংয়ে হাতেখড়ি। এরপর রাজ্য ও জাতীয় স্তর থেকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও মনুর জয়জয়কার। মনুর এই জয়ে তাঁর কোচ যশপাল বেশ উচ্ছ্বসিত। এদিন যশপাল বলেন, “প্যারিস অলিম্পিক্সের প্রস্তুতিতে নিজের ২০০ শতাংশ দিয়েছে মনু। আমি নিশ্চিত আরও পদক জিতে ও এখান থেকে ফিরবে।”
মনুর এই পদকজয়ী পারফরমেন্স দেখেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ফোন করেন। তাদের ফোনালাপে গত অলিম্পিকে মনুর বন্দুকের ধোঁকা দেওয়ার প্রসঙ্গটি নিয়ে কথা হয়। এর সাথে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে জানান সমগ্র ভারতবাসী তাঁর পারফরম্যান্সের জন্য গর্বিত। পাশাপাশি পদক জয়ের পর মনুর সাথে পরিবারের কথা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জিগেশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনু তোমাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আমি তোমার সাফল্যে খুব খুশি। তুমি মাত্র .১ পয়েন্টের জন্য রুপো পাওনি। গোটা দেশ তোমার পারফরম্যান্সে অত্যন্ত খুশি এবং গর্বিত। তুমি দুই ধরনের শুভেচ্ছা পাচ্ছো। প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসাবে অলিম্পিক গেমসে পদক জয়ের শুভেচ্ছা পাচ্ছো। টোকিয়ো অলিম্পিক গেমসে তোমার রাইফেল তোমাকে ধোঁকা দিয়েছিল। তবে এবার তুমি সমস্ত বাধা বিপত্তিকে পিছনে ফেলেছ। আমি আশা রাখছি, অন্যান্য বিভাগেও তুমি খুব ভালো ফল করবে। আশা রাখছি, ওখানে ভারতীয় অ্যাথলিটদের জন্য যে সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তা ভালো। তোমাদের কোনও অসুবিধা হচ্ছে না।’







