বাল্যকালে মাত্র ৪ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার জন্য ক্রমাগত বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল কৃষ্ণাকে। এই অত্যাচারের প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে, কলেজ জীবনেও তিনি তার প্রিয় খেলা ক্রিকেট ও ভলিবল থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন।
কৃষ্ণার এই পরিবর্তনে উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁর বাবা সুনীল তাকে জয়পুরের একটি ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করান। সেখান থেকেই কৃষ্ণার জীবনে আসে এক নতুন মোড়। তিনি প্রথমবার জানতে পারেন প্যারা-বেডমিন্টন সম্পর্কে এবং বুঝতে পারেন যে তার উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতা করতে পারেন।
ভারতের প্যারা-বেডমিন্টন দলের প্রধান কোচ গৌরব খন্নার অধীনে প্রশিক্ষণ শুরু করে কৃষ্ণা আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের নাম তৈরি করেন। ২০১৮ সালের এশিয়ান প্যারা গেমসে ব্রোঞ্জ এবং ২০১৯ সালের বিশ্ব প্যারা ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতে তার দক্ষতা প্রমাণ করেন। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত আসে ২০২০ সালের টোকিও প্যারালিম্পিকসে, যেখানে তিনি পুরুষদের একক SH6 ক্যাটেগরিতে সোনা জেতেন।
সাফল্যের পরও ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধাক্কা আসে, যখন তার মা তার বিজয়ের ছয় মাস পর পরলোক গমন করেন। এই শোক থেকে মুক্তি পেতে কৃষ্ণা আবারও ব্যাডমিন্টনের সাহায্য নেন। এখন তার লক্ষ্য প্যারিসে টোকিওর সাফল্য পুনরায় অর্জন করা।
কৃষ্ণার এই যাত্রা প্রমাণ করে দেয় যে বুলিং এবং হতাশার বিরুদ্ধে জয় লাভ করে সাফল্য অর্জন সম্ভব।







