রাজ্য

‘গো ব্যাক’ স্লোগানে হেনস্থা ঋতুপর্ণার, চরম প্রতিবাদে টলিউড

আরজিকরকাণ্ডের প্রতিবাদ আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। বুধবার রাতে শ্যামবাজারে তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। তাঁর গাড়িতেও ব্যাপক হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি বেলাগাম হয়ে যাওয়ায় এলাকা ছাড়েন অভিনেত্রী।

উল্লেখ্য, শুধু ‘গো ব্যাক’ স্লোগানই নয়, বরং তাঁকে দেখে ধিক্কার জানাতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। গাড়ি লক্ষ্য করে বোতল ছোঁড়া শুরু হয়। একবার জনতার চাপে হোঁচটও খান তিনি।

ঋতুপর্ণা জানান, ‘এই আন্দোলনে আমি সেলিব্রিটি হয়ে যাইনি। আমি যখন যাই, তখনও কিছু হয়নি। মোমবাতি জ্বালাই। অভয়ার আত্মার শান্তি কামনা করি। শুনেছিলাম অভয়ার মা-বাবা আসবেন এই রাত দখলে। তখন কিছু লোক আশপাশে আমাকে ঘিরে ধরে। তাঁরা কিন্ত স্লোগান দেয়নি। ওখানে কিছু কলেজের পড়ুয়ারাও ছিল। যাঁরা মাইকে বলছিল ঋতুদি’কে কিছু বলতে দিন। তার মাঝেই কয়েকজন সাংবাদিক প্রতিক্রিয়ার জন্য আমার কাছে আসে। সেই মুহূর্তেই হঠাৎ একদল লোক আমার দিকে রীতিমতো তেড়ে আসে। ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করে। এমন ধাক্কা দিল যে আমি পড়ে গেলাম। আমারে পাশে রাতাশ্রীও ছিল, সে আমার উপর পড়ে গেল। কিছু সাংবাদিকও পড়ে গেল। এটা কি প্রত্যাশিত ছিল? আমি তো একবুক সমবেদনা এবং বিচারের দাবি জানিয়ে সকলের সঙ্গে সামিল হতে গিয়েছিলাম। আমার নতুন গাড়িতে জোরে মেরেছে ওরা, গাড়ির কিছু জায়গা ভেঙে গিয়েছে। আমি মাঝে বললাম, যে আমার কথা আপনারা শুনুন! কিন্তু কেউ শুনল না। আরও জোরে স্লোগান দিতে শুরু করল। ওই একদল লোক মদ্যপ ছিল!’

ঘটনার নিন্দে করেছেন টলিউডের একাংশ৷ পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় লেখেন, ‘ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর সঙ্গে এই অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সবাই আন্দোলনে সামিল হতে পারেন। কেউ কাউকে আটকাতে পারেন না।’ প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনন্যা চট্টোপাধ্যায়ও। তিনি লেখেন, ‘ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের অপমানের তীব্র সমালোচনা করছি। মানুষকে অনুরোধ করছি, নিজের লড়াইটা বেছে নিন। এখন আমাদের অনেকেই লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে চাইবেন। তাঁদের সফল হতে দেবেন না দয়া করে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.