ভিনগ্রহে প্রাণী কি সত্যি আছে? এ নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে বিজ্ঞানী কৌতুহলের অন্ত নেই। কত আলোচনা, চিন্তা ভাবনা রয়ে গিয়েছে একে কেন্দ্র করে। সিনেমার পর্দায় ইউএফো করে সোজা পৃথিবীর মাটিতে নেমেছে ওরা। কখনও মানুষের শত্রু বেশে কখনও বা বন্ধু হয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।কিন্তু বার বার বিজ্ঞানীরা সন্ধান করলেও এদের অস্তিত্বের কোনও প্রমাণ রিল দুনিয়া ছাড়িয়ে রিয়েল দুনিয়ায় মেলেনি।কিন্তু এতদিন পর আশার রুপোলি আশার সন্ধান পাওয়া গেল। সেই সন্ধান জানাল স্বয়ং নাসা।
নাসার নেতৃত্বে সাম্প্রতিক কালে এক গবেষণা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, মঙ্গলগ্রহে পুরু বরফের স্তরের নীচে ভিনগ্রহের জীবন লুকিয়ে থাকতে পারে। মনে করা হচ্ছে ধুলিকণা মিশ্রিত তুষার পাত থেকে বরফের এই পুরু স্তরটি তৈরি হয়েছিল।এই ধূলিকণা মিশ্রিত বরফ সূর্যালোক শোষণ করে নেয়। এর ফলে বরফের নীচের অঞ্চলটিকে উষ্ণ করে তোলে। এর ফলে বরফের তলায় ছোট-ছোট জলাশয় তৈরি হয়েছে। সেখানে ক্ষুদ্র জীবের বসবাসের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।যদিও এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না। এর জন্য দরকার আরও বেশি অধ্যয়নের। নাসা উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে চেষ্টা করছে বরফের পুরু আস্তরণের ভিতরের আবহাওয়া আরও নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে।
এই সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে, নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো আদিত্য খুল্লর জানিয়েছেন, পৃথিবার মতো মঙ্গলে ওজন স্তরের চাদর নেই। তাই আমাদের তুলনায় লাল গ্রহে ৩০ শতাংশ বেশি ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মীর উপস্থিতি রয়েছে।কিন্তু এর পৃষ্ঠে থাকা ধূলিকণা সেই রশ্মি আটকে দেয়। এতে বরফের নীচে প্রাণের উপযুক্ত পরিবেশ থাকা একেবারে অলিক কল্পনা না-ই হতে পারে। নাসার গবেষক দল আরও জানান সালোকসংশ্লেষ করতে জরুরি সূর্যালোক ও জল, এই দুয়েরই সন্ধান মঙ্গলে ঘন তুষারের ভিতরে পাওয়া গিয়েছে।যদিও প্রাণের সন্ধান পেলেও বড় পর্দায় ইউএফো করে আসা দেখে অভ্যস্ত পৃথিবীবাসীকে কি খুশি করবে? কিন্তু এককোষী জীবনেরও যদি সম্ভাবনা পাওয়া যায়, বিজ্ঞানের দুনিয়ায় তা হবে মাইল স্টোন।তবে ওই যে নাসা বলছেন, এখনই কল্প দুনিয়ায় না ভেসে জরুরি আরও অধ্যয়নের, উন্নত প্রযুক্তির।







